আজকাল ওয়েবডেস্ক: আবারও কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। আজ, বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। ভবানীপুর থানার সামনে বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর ঘটনার উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি। পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়ার কথাও বক্তব্যে উঠে আসে।
ধর্মীয় উৎসব, তারাপীঠে সরকারি ব্যবস্থাপনা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুরুতেই ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার প্রয়াণ দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান তিনি। একইসঙ্গে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেওয়ার কথাও জানান।
তারাপীঠের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব সেখানে চলছে। উৎসব উপলক্ষে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় তারাপীঠ মন্দিরের উপর সরকারি হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টির আয়োজন করা হয়েছিল।
এরপর বিরোধীদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে পাল্টা আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধী পক্ষের এক সদস্যের ‘মুখ্যমন্ত্রী গেরুয়া ধারণ করেছেন’ মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, গেরুয়া কোনও রাজনৈতিক দলের একচেটিয়া পরিচয় নয়। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় পোশাক ও গেরুয়া রঙকে ঘিরে বিরোধীদের মন্তব্যের সমালোচনা করা হয়।
বক্তব্যে সাম্প্রতিক কয়েকটি হিংসার ঘটনাও টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। সামশেরগঞ্জে সুজিত মণ্ডলকে হত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি হিংসার রাজনীতির সমালোচনা করেন। তবে বক্তব্যে উল্লিখিত ঘটনার বিষয়ে পৃথক কোনও তদন্ত বা সরকারি রিপোর্টের উল্লেখ করা হয়নি।
ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সাধু-সন্তদের বক্তব্য নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সন্ন্যাসী বা সাধুরা তাঁদের নিজস্ব মতাদর্শ, রাষ্ট্রবাদ, অখণ্ড ভারত, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে পারেন। কেউ সেই বক্তব্য গ্রহণ করবেন কি না, তা ব্যক্তিগত বিষয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শেষে বিরোধীদের ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’র অভিযোগের জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই ধরনের রাজনীতির কারণেই বিরোধীদের আসনসংখ্যা কমেছে। একইসঙ্গে উপনির্বাচনের পর তাঁদের দলের আসনসংখ্যা আরও বাড়বে বলেও তিনি দাবি করেন।