• অভিষেক ব্যানার্জির বাড়ি থেকেই গ্রেপ্তার সুমিত রায়
    আজকাল | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: শালবনির জমি দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার করা হল অভিষেক ব্যানার্জির আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে। তাকে অভিষেক ব্যানার্জির বাড়ি থেকেই গ্রেপ্তার করল সিআইডি। এর কিছু সময় আগেই অভিষেক ব্যানার্জির আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের রক্ষাকবচ বাতিল করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের এই রায়ের ফলে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে আর কোনও আইনগত বাধা ছিল না। আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানায়, সুমিতকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তদন্তে সঠিক ভাবে সাহায্য করেননি। এরপরই সুমিত রায়কে গ্রেপ্তার করে ভবানী ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা হবে।

    এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন,  রাজ্যের এক ‘প্রসিদ্ধ তোলাবাজ’  সুমিত রায়কে রাজ্য পুলিশের সিআইডি গ্রেপ্তার করেছে। সুপ্রিম কোর্টে সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে থাকা রক্ষাকবচ প্রত্যাহার হওয়ার পরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।  ১২১ কালীঘাট রোড থেকে সুমিত রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    শালবনিতে জমি দুর্নীতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত সুমিত। ওই মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন হাই কোর্ট খারিজ করে দিয়েছিল। তার পরে সুপ্রিম কোর্টে যান সুমিত। বুধবার মামলাটির শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে।

    বুধবার রাজ্যের হয়ে আদালতে সওয়াল করেছিলেন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি জানান, গত জুনে সুমিতের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭১ লক্ষ টাকা জমা পড়েছে। মোট প্রায় ১৫ কোটি টাকা জমা হয়েছে অভিষেকের আপ্তসহায়কের অ্যাকাউন্টে। এই টাকার উৎস কী, তা নিয়ে সন্দেহপ্রকাশ করেছেন তদন্তকারীরা। তাই অভিষেকের আপ্তসহায়কের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে সওয়াল করা হয়। সুমিতের হয়ে সওয়াল করেন তাঁর আইনজীবী গোপালশঙ্কর নারায়ণ এবং অয়ন ভট্টাচার্য।

    প্রসঙ্গত, জমি দুর্নীতি মামলায় অভিষেক ব্যানার্জির আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের রক্ষাকবচ মামলায় বুধবার সুপ্রিম কোর্টে একাধিক অভিযোগ তুলেছিল রাজ্য। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর এজলাসে মামলার শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী তথা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে অভিযোগ করেছিলেন, একাধিক সরকারি জমি অন্য ব্যক্তির নামে মিউটেশন করিয়ে বিক্রি করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রয়েছে সুমিতের। তদন্তে জমির দালালরা সুমিতের নাম বলেছেন। বিভিন্ন সময়ে খেপে খেপে সুমিত তাঁর অ্যাকাউন্টে ১৫ কোটি টাকা জমা করেছেন। ব্যাঙ্কের সেই স্লিপও আছে বলে এদিন আদালতে দাবি করেন সলিসিটর জেনারেল।

    এরপরই তুষার মেহতা আদালতে দাবি করে, সুমিত রায়ের বিভিন্ন নথিতে তাঁর পদবীর ইংরেজি বানান আলাদা আলাদা। সলিসিটর জেনারেল অভিযোগ করেন পদবীর দুই রকম বানান দেখিয়ে সুমির দাবি করছেন দুই ব্যক্তি এক নয়। এই অজুহাতে তদন্তকারীদের প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছেন সুমিত। সেই কারণে সুমিতকে হেফাজতে নিয়ে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানান তিনি।

    শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তের পরই তার বাড়িতে পৌঁছে যায় সিআইডি এবং এসটিএফ। তারা চারিদিক থেকে বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। পাশাপাশি অভিষেক ব্যানার্জির বাড়িও ঘিরে ফেলেন সিআইডি এবং এসটিএফ। এরপরই অভিষেক ব্যানার্জির বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সুমিত রায়কে।
  • Link to this news (আজকাল)