আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবারই বিধানসভায় পেশ হয়েছে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মী ও শিক্ষক বদলি সংক্রান্ত বিল। বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই এই বিলের গুরুত্ব বুঝিয়ে বলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য ছিল চাঁচাছোলা। বিতর্কের মধ্যেই নিজের ভাষণে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ‘জুটা’কে বেনজিরভাবে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চ্যাটার্জি জানিয়েছেন, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনও শিক্ষককে রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়।
বিল প্রসঙ্গে কী বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী?
"জুটার সদস্যরা কবে কোথায় কী ভূমিকা নিয়েছিলেন, তার সমস্ত ইতিহাস সরকারের কাছে রয়েছে। এত জ্ঞান, এত আন্তর্জাতিক বুদ্ধি যাদের, তাদের আমরা রাজ্যের নতুন ও পিছিয়ে পড়া দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পাঠাব- যাতে সেই সব কেন্দ্রগুলিও সবল হয়ে ওঠে। আর যাদের এই সরকারি চাকরিতে এত অসুবিধা হচ্ছে, তারা চাকরি ছেড়ে দিন। কাঁধে ঝোলা ব্যাগ ঝুলিয়ে পাকাপাকি হোলটাইমার হয়ে যান এবং নিউ মার্কেটে কৌটো হাতে চাঁদা তুলতে নেমে পড়ুন।"
কী বলেছেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী?
"শিক্ষক বা শিক্ষাবিদদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে জ্ঞান আদানপ্রদানের ধারণা নতুন নয়। প্রাচীন ভারতীয় গুরুকুল ব্যবস্থায়ও বিভিন্ন শিক্ষাকেন্দ্রের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বিনিময়ের নজির ছিল বলে বক্তার দাবি। পরবর্তী সময়ে তক্ষশিলা, নালন্দা ও বিক্রমশিলার মতো শিক্ষাকেন্দ্রগুলিতেও বিভিন্ন শিক্ষাকেন্দ্রের মধ্যে জ্ঞান ও শিক্ষার আদানপ্রদান হয়েছে বলে বিধানসভায় উল্লেখ করা হয়। দেশের কয়েকটি রাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও আধিকারিকদের বদলির বিষয়ে ইতিমধ্যেই বিধান রয়েছে। বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যের উদাহরণ টেনে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গেও সেই ধরনের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।"
সরকার পক্ষের বক্তব্য, রাজ্যের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পর্যাপ্ত স্থায়ী শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার মান ও পরিকাঠামো উন্নয়নে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বদলির ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে বিধানসভায় দাবি করল রাজ্য সরকার। সরকারের বক্তব্য, কয়েকটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও স্থায়ী ফ্যাকাল্টি নেই। কোথাও উপাচার্য রয়েছেন, কিন্তু স্থায়ী অধ্যাপক নেই। অতিথি শিক্ষক বা গেস্ট লেকচারারের মাধ্যমে পঠনপাঠন চালাতে হচ্ছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলি তৈরি হয়ে যাওয়ার পর সেগুলি বন্ধ করে দেওয়ার প্রশ্ন নেই। কিন্তু একসঙ্গে সমস্ত পদে নতুন করে নিয়োগ করাও দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং তার সঙ্গে বড় আর্থিক দায় রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে যেখানে কোনও কোনও বিষয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক শিক্ষক রয়েছেন, সেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অভিজ্ঞ শিক্ষক পাঠানোর সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।
উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক স্বাধীনতা বজায় রেখেই প্রশাসনিক প্রয়োজন অনুযায়ী এই আইনের প্রয়োগ করা হবে।