আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতার দুর্গাপুজো দেখতে এবার শহরে নামবে এক অন্য ধরনের ‘ভিআইপি’ দল। তবে তাঁদের পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে না পদমর্যাদা বা পেশা। বয়সকেই গুরুত্ব দিয়ে প্রায় ১০ হাজার প্রবীণ নাগরিককে পুজো দেখানোর বিশেষ পরিকল্পনা করেছে আদানি গোষ্ঠী। পুজোর ভিড় শুরু হওয়ার আগেই তাঁদের জন্য খুলে যাবে কলকাতার নির্বাচিত কয়েকটি মণ্ডপ। ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা এই বিশেষ পুজো পরিক্রমার। মহালয়া থেকে দ্বিতীয়ার মধ্যে তিন রাতে আমন্ত্রিতরা ঘুরবেন আটটি নির্বাচিত পুজো মণ্ডপ। সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত। মূল পুজোর দিনগুলিতে কলকাতার রাস্তায় দর্শনার্থীর চাপ বাড়ার আগে এই পরিক্রমা শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে। প্রবীণদের কথা মাথায় রেখে গোটা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে কোন আটটি পুজোকে চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলেই সূত্রের দাবি। পুজো বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও থাকছে একাধিক মাপকাঠি। মণ্ডপের নকশা ও শিল্পভাবনা থেকে প্রতিমার পরিকল্পনা, থিমের অভিনবত্ব, নির্মাণের মান এবং গোটা আয়োজন ইত্যাদি সব বিষয়কে বিবেচনায় নেওয়া হবে। নির্বাচিত পুজোগুলিকে আদানি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই আয়োজন অবশ্য শুধু প্রবীণদের ঘিরে থাকছে না। স্থানীয় থেকে আন্তর্জাতিক স্তরের প্রায় ৫০ জন বিশিষ্ট অতিথিকেও পুজো পরিক্রমায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি আধিকারিক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, শিল্পপতি, সাংবাদিক, সমাজমাধ্যমের পরিচিত মুখ, পড়ুয়া এবং পুজো উদ্যোক্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। এবারের উদ্যোগের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ১০ অক্টোবর মহালয়ার দিন ইডেন উদ্যানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে দুর্গাপুজোর সূচনার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর রেড রোডে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে রোড শো ও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথাও রয়েছে। আর ঠিক ওই দিন থেকেই আদানি গোষ্ঠীর পুজো প্রিভিউ ট্যুর শুরু হওয়ার কথা।
কলকাতার পুজোকে শুধু উৎসব হিসেবে নয়, মণ্ডপশিল্প, প্রতিমা নির্মাণ, পরিকল্পনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের একটি বড় পরিসর হিসেবে দেশ-বিদেশের মানুষের সামনে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য বলে সূত্রের খবর। আগামী বছরগুলিতে আরও বেশি পুজোকে এই পরিক্রমার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।