• ২৬ কোপে ব্যবসায়ী খতম, পার্টি থেকে নির্দেশ পুত্রবধূর
    বর্তমান | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • লখনউ: চিত্র ১: কানপুরের কসমোজিন লাউঞ্জ। স্পিকারে বাজছে জনপ্রিয় হিন্দি গান। তাতে আরও ‘মশলা’ যোগ করছেন ডিজে। আবহকে আরও রঙিন করে তুলছে ডিস্কো আলোর ঝলকানি। ‘তুম তো ধোঁকেবাজ হো’— সঙ্গে কোমর দোলাচ্ছেন শালু মিনোচা।

    চিত্র ২: বেডরুমে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। পেশায় ব্যবসায়ী। নাম বিনীত মিনোচা। ২৬বার কুপিয়ে নৃশংসভাবে তাঁকে খুন করেছে দুষ্কৃতীরা।

    কিন্তু, এই দুই ঘটনার মধ্যে যোগ কোথায়? পুলিশের উত্তর, মাত্র একটা ফোনকল। আর তাতেই লুকিয়ে রয়েছে ধোকেবাজি (প্রতারণা) ও হত্যাকাণ্ডের টানটান চিত্রনাট্য। শালু হলেন বিনীতের পুত্রবধূ। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি ও হাতে টাকা না দেওয়ায় শ্বশুরের উপর বেজায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল তাঁর। সেজন্যই বিনীতকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন মহিলা। খুনের জন্য বাড়ির প্রাক্তন পরিচারককে ‘নিয়োগ’ করেন। যেসময় বিনীতকে কুপিয়ে কুপিয়ে মারা হচ্ছে, সেইসময় কসমোজিন লাউঞ্জে বন্ধুদের সঙ্গে পার্টি করছিলেন শালু। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণে পার্টিকেই ঢাল করার কৌশল নিয়েছিলেন মহিলা। কিন্তু, পুলিশি তদন্তে সেইসব ছক কাজে আসেনি। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের দিন বাড়ি থেকে বেরনোর আগেই সবকিছু পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন শালু। লাউঞ্জে গেলেও ফোনের মাধ্যমে প্রাক্তন পরিচারক তথা হত্যাকারীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন তিনি। ইতিমধ্যেই খুনের অভিযোগে প্রাক্তন পরিচারক বিশালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে জেরা করতেই মৃতের পুত্রবধূর প্রসঙ্গ উঠে আসে। বিশাল জানিয়েছেন, খুনের জন্য ৬ লক্ষ টাকার প্রস্তাব দিয়েছিলেন শালু। ২লক্ষ টাকা অ্যাডভান্সও দেন। বিশালের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে শালুকে হেপাজতে নিয়েছে পুলিশ। জেরায় তিনি জানিয়েছেন, সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে তাঁর গতিবিধিতে নজর রাখতেন শ্বশুর। বাড়িতে দেরি করে এলে কথা শোনাতেন। ধনী পরিবারের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও হাতে টাকা দেওয়া হতো না। ছোটোখাটো ব্যয়ভারের খরচ শ্বশুরের কাছে চাইতে হতো। গত ২৮ জুলাই শালু বাড়ি ফেরার পর একদফা বচসা হয়। তারপরই খুনের পরিকল্পনা। 
  • Link to this news (বর্তমান)