গোপাল সূত্রধর, বালুরঘাট: সদ্য নতুন সাতটি বিষয়ে ক্লাস শুরুর অনুমোদন পেয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়। তাতে প্রায় ৫০০ জন নতুন পড়ুয়ার ক্লাস শুরু হওয়ার কথা। চলতি মাসের শেষেই সেই ক্লাস শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু তাঁদের ক্লাস কোথায় হবে সেই জায়গা এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সংস্কার করে দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু সেখানে এখনও সংস্কারের কাজ শুরুই হয়নি। ফলে নতুন পড়ুয়াদের কোথায় ক্লাস হবে তা নিয়েই এবার নতুন সংকট দেখা দিয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবন সংস্কারের জন্য যে অর্থের প্রয়োজন সেই অর্থ এখনও আসেনি। এই পরিস্থিতিতে শহরের বেসরকারি বিএড কলেজের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক ভাবে কিছু ক্লাস রুম ও রসায়নের ল্যাবরেটরি দিতে রাজিও হয়েছে বিএড কলেজ কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রণব ঘোষ বলেন, ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। চলতি মাসের শেষের দিকে ক্লাস শুরু করে দিতে হবে। কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ক্যাম্পাস এখনও পাইনি। কবে পাবো এখনও বুঝতে পারছি না। তাই বিএড কলেজের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। তাঁরা বিএড কলেজের কিছু ক্লাস রুম ও রসায়নের ল্যাবরেটরি দিতে রাজি হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বালুরঘাটে মাহিনগর এলাকায় ১১ একর জমি রয়েছে। সেই জমিতে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার কথা রয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয় বিএড কলেজের পুরনো ও জীর্ণ হোস্টেলে চলছে। ওই জায়গায় তিনটি বিষয়ের ক্লাস চলে। তিনটি বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় দেড়শ পড়ুয়া রয়েছেন। সেখানে জায়গা ও ক্লাসরুম পর্যাপ্ত নেই। নতুন করে সাতটি বিষয়ে ৫০টি করে আসন অনুমোদন হয়েছে। তাই পুরনো ১৫০ ও নতুন ৩৫০ পড়ুয়া মিলিয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৫০০। কিন্তু এত ছাত্রছাত্রী এক সঙ্গে কোথায় বসবেন? এর উত্তর এখনও জানা নেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।
সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, মাহিনগরের ভবন সংস্কারের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। ওই অর্থ কিভাবে মেটানো হবে তা এখনও স্থির না হওয়ায় ভবন সংস্কারের কাজ থমকে গিয়েছে। যার ফলে নতুন করে সংকটের মুখে পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যদিও এই বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও আধিকারিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
বালুরঘাটের বিধায়ক বিদ্যুৎকুমার রায় বলেন, নতুন বিষয়ের অনুমোদন পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। তাই দ্রুত ক্লাস শুরু হবে। ভবনের সংস্কার এখনও কেন শুরু হল না তা নিয়ে আমি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবো। প্রয়োজনে দ্রুত সংস্কার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে তুলে দেওয়া হবে। • দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভবন এখনও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। - নিজস্ব চিত্র।