• বীরভূমে নিয়োগে অস্বচ্ছতা! কড়া প্রশাসন, পঞ্চায়েতের ট্যাক্স সংগ্রাহকদের বেতন বন্ধ করল জেলা পরিষদ
    বর্তমান | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • পিনাকী ধোলে, সিউড়ি: পঞ্চায়েতস্তরে রাজস্ব আদায়ে সরকারের নিযুক্ত ট্যাক্স কালেক্টর রয়েছে প্রায় প্রতি পঞ্চায়েতেই। তা সত্ত্বেও নিজেদের দলের ঘনিষ্ঠ অনুগামীদের সুবিধা পাইয়ে দিতে অভিনব এক পদের জন্ম দিয়েছিল পূর্বতন তৃণমূল পরিচালিত বীরভূম জেলা পরিষদ। পদের নাম ‘ট্যাক্স ফেসিলিটেটর’। জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, ২০১৮ সালের পর থেকে এই পদে দেদার নিয়োগ হয়েছে। অভিযোগ, সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে তৃণমূল ঘনিষ্ঠদেরই এই চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। পালাবদলের পর নিয়োগে বিস্তর অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে জেলার বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে কর্মরত প্রায় ১১৫ জন ট্যাক্স ফেসিলিটেটরের বেতন পুরোপুরি বন্ধ করে দিল প্রশাসন। 

    সেই সময় জেলা পরিষদের কর্তাদের দাবি ছিল, পঞ্চায়েতে কাজের সুবিধার্থে এই নিয়োগ। কর্মস্থল পঞ্চায়েতে হলেও বেতন মেটাত জেলা পরিষদই। দৈনিক উপস্থিতির হারে বেতন দেওয়া হতো। তবে, বেতন যে প্রতি মাসে মিলত, এমনটাও নয়। তিন চার মাসের বেতন একসঙ্গে মিটিয়ে দেওয়া হতো। পালাবদলের পর বেতন একেবারে বন্ধ। আগের কয়েকমাসের বেতনও বকেয়া। সেটাও মিলবে কি না, নিশ্চিত নয়। ফলে, বিপাকে পড়েছেন ট্যাক্স ফেসিলিটেটররা। যদিও তাঁদের প্রতি কোনো সহানুভূতি নেই বিজেপির। উলটে অভিযোগ, সে সময় তৃণমূলের দাপুটে নেতারা সরকারি চাকরি দেওয়ার নাম করে বহুজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তুলেছিলেন। কিন্তু শেষমেশ চাকরি দিতে না পেরে নেতারা চরম বিক্ষোভের মুখে পড়েন। তখনই তড়িঘড়ি জেলা পরিষদের স্থায়ী সমিতির বৈঠক ডেকে পদগুলি তৈরি করা হয়। 

    অভিযোগ, শিক্ষকের চাকরি না পাওয়া প্রার্থীদের পাশাপাশি এই পদে নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন শাসকদলের প্রভাবশালী নেতাদের গাড়ির চালক, বাড়ির রাঁধুনি এবং দলীয় কর্মসূচিতে নেতাদের ছবি তোলার দায়িত্বে থাকা সাগরেদরাও! এমনকি, নেতাদের ঘনিষ্ঠ অনেকেই দৈনিক কাজের হারে নিয়মিত সরকারি টাকা পকেটে পুরেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কোনো দিনই করেননি। এই বাবদ জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রতি মাসে প্রায় সাত-আট লক্ষ টাকা খরচ হতো। বর্তমান প্রশাসন সেই খরচে রাশ টেনেছে।

    আচমকা বেতন বন্ধ হতেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন ওইসব কর্মীরা। নানুরের চণ্ডীদাস গ্রাম পঞ্চায়েত, বোলপুরের সিয়ান মুলুক, লাভপুরের জামনা হোক কিংবা দাসকলগ্রাম করেয়া-২ সহ একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানরা অবিলম্বে ওই কর্মীদের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়ে জেলা পরিষদের কর্তাদের কাছে লিখিত চিঠি পাঠিয়েছেন। প্রধানরা জানিয়েছেন, ‘এইসব কর্মীদের কাজে আমরা ভীষণ খুশি। বকেয়া টাকা মিটিয়ে দিলে খুব ভালো হয়।’ চণ্ডীদাস গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বেলি মাঝি বলেন, ‘এমনিতেই অল্প মাইনে। টাকা না পেয়ে কর্মীরা সমস্যায় পড়েছেন। তবে তাঁরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।’

    জেলা পরিষদের অবশ্য মন গলছে না। এক শীর্ষ কর্তার স্পষ্ট দাবি, ‘গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই চরম অস্বচ্ছতা রয়েছে। মূলত সেই কারণেই বেতন বন্ধ  করে দেওয়া হয়েছে।’ ফলে, আগামীদিনে এই কর্মীদের আদৌ বহাল রাখা হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় দেখা দিয়েছে। সরকারি কোষাগারের টাকা এহেন যথেচ্ছ অপচয়ের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তুলেছেন জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি দীপক দাস। তিনি বলেন, ‘বেআইনিভাবে এই পদগুলি তৈরি করে তৃণমূলের লোকজনকে নিয়োগ করা হয়েছিল। এতে সরকারি টাকার অপচয় করা হয়েছে। প্রশাসন যা করেছে, একদম সঠিক।’
  • Link to this news (বর্তমান)