• তারাপীঠে পুণ্যার্থী ভিড়ের চাপ বিপর্যস্ত মোবাইল পরিষেবা, ডিজিটাল কুপন থেকে অনলাইন পেমেন্টে দুর্ভোগ
    বর্তমান | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য ডিজিটাল কুপনের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। অথচ কৌশিকী অমাবস্যায় পুণ্যার্থী-পর্যটকদের ভিড়ে পুরো মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বিপর্যস্ত হল। ৪জি কিংবা ৫জি পরিষেবা তো দূর অস্ত, সাধারণ ফোনকলে কথা বলাই দায় হয়ে উঠল। নাজেহাল হলেন সকলে। বৃহস্পতিবারও টেলিকম সার্ভিস প্রোভাইডারদের সমস্যার কথা জানিয়েছেন খোদ জেলাশাসক ধবল জৈন।

    মন্দিরে আর্থিক স্বচ্ছতা আনতে ও দীর্ঘ লাইন এড়াতে চারদিন আগে ভিআইপি লাইনের পুজো দেওয়ার জন্য কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল কুপন চালু করেছিল মন্দির কমিটি। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। নেটওয়ার্ক না থাকায় কিউআর কোড স্ক্যান করাই সম্ভব হচ্ছে না। বিহারের পুণ্যার্থী অনিল শর্মার কথায়, ভেবেছিলাম ভিআইপি লাইনে তাড়াতাড়ি পুজো দিয়ে দেব। কিন্তু দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে মন্দির চত্বরে থাকা কিউআর কোডই স্ক্যান করা গেল না।

    আর এক পুণ্যার্থী দিগম্বর হাজরা বলেন, বাড়ির বয়স্কদের ভিডিও কলে মন্দির দর্শন করাব ভেবেছিলাম, কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপ তো দূরের কথা, সাধারণ কল করতেই কালঘাম ছুটে যাচ্ছে। বারবার কল ড্রপ হচ্ছে। ভিড়ের মধ্যে সঙ্গীদের খোঁজ পেতে হিমশিম খেলাম। 

    একই সমস্যায় পড়তে হল স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরও। ইউপিআই বা ডিজিটাল লেনদেনের যুগে ইন্টারনেট উধাও হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়লেন। ফলে কেনাকাটা থেকে কেনাবেচা, সবক্ষেত্রেই চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। হোটেল ব্যবসায়ী সুনীল গিরি বলেন, রেস্তরাঁ বা রুমের ভাড়া অনলাইনে পেমেন্টের ক্ষেত্রে অনেক অসুবিধা হচ্ছে পর্যটকদের। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাঁদের। 

    নিরাপত্তা নিয়েও তৈরি হয়েছে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন। মন্দির কমিটির সেবাইত তথা প্রাক্তন সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারাপীঠ এখন বিশ্বমানের তীর্থক্ষেত্র। এত ভিড়ের মধ্যে কোনো পুণ্যার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে বা কোনো শিশু হারিয়ে গেলে পুলিশ কিংবা অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করা হবে? মোবাইল পরিষেবা মানুষকে সমস্যায় ফেলেছে। অনেক ভক্ত আসতে পারেননি। তাঁরা পুজো দেওয়ার জন্য হোয়াটসঅ্যাপে নাম-গোত্র পাঠাচ্ছেন। কিন্তু ইন্টারনেট পরিষেবা একদম না মেলায় ডাউনলোডই করা যাচ্ছে না। 

    স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রতি বছর কৌশিকী অমাবস্যায় এই একই ভোগান্তি পোহাতে হয়। মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অমাবস্যার আগেই প্রশাসনিক বৈঠকে এই সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা গেল না। সমস্যার কথা স্বীকার করে জেলাশাসক ধবল জৈন বলেন, প্রশাসনিক স্তরে টেলিকম সার্ভিস প্রোভাইডারদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। এদিনও তাঁদের বলা হয়েছে। সংস্থাগুলি নেটওয়ার্ক সক্রিয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)