• ডাক্তার, নার্স, সাফাই কর্মী বাড়ন্ত সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা শিকেয়
    বর্তমান | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: চিকিৎসক, নার্সিং স্টাফ থেকে শুরু করে গ্রুপ ডি কর্মী, সাফাইকর্মী সবেতেই টান। পর্যাপ্ত কর্মীর অভাবে ভুগছে নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতাল। সরকারি এই হাসপাতালে কোনো অর্থোপেডিক চিকিৎসকও নেই! ফলে হাত-পা ভাঙা বা হাড়ের সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের পাঠানো হচ্ছে কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর জেলা হাসপাতাল কিংবা অন্য কোনো মেডিকেল কলেজে। ইউএসজি পরিষেবার জন্য চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে মেশিন। সবমিলিয়ে চিকিৎসক ও কর্মীর সংকটে জেরবার ১২৫ শয্যার এই সরকারি হাসপাতাল। শুধু নবদ্বীপই নয়, পার্শ্ববর্তী পূর্ব বর্ধমান জেলার বেশকিছু এলাকার বাসিন্দারাও চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে আসেন। 

    হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ১৭০ থেকে ১৮০ জন রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভরতি হন। এছাড়া বহির্বিভাগে আরও কয়েক’শো রোগী চিকিৎসা করাতে আসেন। এত বিপুল সংখ্যক রোগী হাসপাতালে থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা মেলে না। এমনকি, সবচেয়ে জরুরি মেডিসিন বিভাগেও পর্যাপ্ত চিকিৎসকের অভাব রয়েছে। জানা গিয়েছে, হাসপাতালের তিনজন মেডিসিন চিকিৎসকের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে রয়েছেন মাত্র একজনই। এখানে দীর্ঘদিন বিক্ষিপ্ত পরিস্থিতি চলছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। এই হাসপাতালে ইউএসজি মেশিন থাকলেও তা বর্তমানে অকেজো হয়ে রয়েছে। তার উপর এই পরিষেবা দেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও নেই। ফলে ইউএসজি করানোর প্রয়োজন হলে রোগীদের অন্যত্র ছুটতে হচ্ছে।

    পর্যাপ্ত সাফাইকর্মী না থাকায় পুরানো ও নতুন ভবনের পাশাপাশি ব্লাড ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলির পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতেও সমস্যা হচ্ছে। নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে জানা গিয়েছে। এমনকি, এই হাসপাতালে কোনো লিফটম্যান নেই। হাসপাতালের পরিকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য নতুন ভবন তৈরি হলেও কর্মীর সংখ্যা সেই অনুপাতে বাড়েনি বলেই অভিযোগ। ফলে কর্মীদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

    স্থানীয় বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী বলেন, কয়েকদিনের মধ্যেই এই হাসপাতালে অর্থোপেডিক চিকিৎসক যোগ দেবেন। মেডিসিন সহ যে সব বিভাগে চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে, সেই বিষয়টি স্বাস্থ্য দপ্তরকে জানানো হয়েছে। বিধায়ক আরও বলেন, নতুন ইউএসজি ও সিটি স্ক্যান মেশিনও চাওয়া হয়েছে। নতুন করে ১০০ শয্যার ডিপিআর স্বাস্থ্যদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।  নার্স, সাফাইকর্মী, গ্রুপ ডি কর্মী সহ বিভিন্ন বিভাগে যেসব ঘাটতি রয়েছে, সেসব সমস্যার সমাধানে কিছু সময় লাগবে। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)