বারাসতের টোটোচালকের দেহ উদ্ধার শাসনে, খুনের অভিযোগ পরিবারের
বর্তমান | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাতভর নিখোঁজ ছিলেন টোটোচালক। মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ধরে খোঁজ মিলল তাঁর টোটোর। গাড়ির হ্যান্ডেলে রক্তের দাগ। তার কিছু দূরেই, টাকি রোডের ধারে ডোবার জলে মিলল চালকের দেহ। বৃহস্পতিবার শাসন থানার গোলাবাড়ি এলাকার এই ঘটনায় শোরগোল পড়েছে। মৃতের নাম সঞ্জিত দাস (৩২)। বাড়ি বারাসতের যশোর রোডের ১ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন জগদিঘাটা কাজিপাড়া এলাকায়। এক মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছেন তাঁর। সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত না থাকলেও এলাকায় বিজেপি কর্মী বলেই তিনি পরিচিত ছিলেন। ফলে মৃত্যুর নেপথ্যে পারিবারিক না কি রাজনৈতিক কারণ, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বুধবার দুপুরে খাওয়াদাওয়া সেরে প্রতিদিনের মতো টোটো নিয়ে বেরিয়েছিলেন সঞ্জিত। ভাড়া খাটতে খাটতে রাত হয়ে যায়। রাত ১০টা নাগাদ স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা হয় তাঁর। স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন, ভাড়ায় রয়েছেন। রাত ১১টার পরে বারবার ফোন করা হলেও আর সাড়া মেলেনি। রাত বাড়তেই উদ্বেগ বাড়ে পরিবারের। সহকর্মী টোটোচালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। রাতভর তারা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালান। কিন্তু সঞ্জিতের কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিবারের তরফে বারাসত থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে ফের খোঁজ শুরু হয়। মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ধরে সঞ্জিতের দুই সহকর্মী টাকি রোডের গোলাবাড়ি এলাকায় একটি পেট্রল পাম্পের কাছে পৌঁছন। সেখানে পড়ে থাকতে দেখা যায় সঞ্জিতের টোটো। গাড়ির হ্যান্ডেলে রক্তের দাগ নজরে আসতেই সন্দেহ বাড়ে। এরপরেই আশপাশে খোঁজ শুরু করেন তাঁরা। টাকি রোডের ধারে একটি ডোবার জলে শেষ পর্যন্ত সঞ্জিতের মৃতদেহ দেখতে পাওয়া যায়। খবর দেওয়া হয় শাসন থানায়। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, সঞ্জিতের হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলার নলিতেও ধারাল অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন মিলেছে।
সঞ্জিতের আত্মীয় সন্ন্যাসী দাস বলেন, সঞ্জিতকে খুন করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক। দোষীদের শাস্তি চাই। বারাসতের পুলিশ সুপার জে মার্সি বলেন, বুধবার রাতে পরিবারের তরফে নিখোঁজের অভিযোগ হয়েছিল। বৃহস্পতিবার টোটোচালকের দেহ উদ্ধার হয়েছে। খুনের ধারা যুক্ত করে তদন্ত হবে।