• অন্নর্পূণায় বঞ্চনার পিছনে ভোটকুশলী সংস্থার কর্মীদের হাত: গোয়েন্দা রিপোর্ট
    বর্তমান | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অন্নপূর্ণা যোজনায় যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার পিছনে রয়েছেন বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসাবে নিযুক্ত একটি ভোটকুশলী সংস্থার লোকজন। এই সমস্ত সেক্টরে তাঁরা চাকরি পেয়েছেন তৃণমূল জমানায়। যাচাইয়ের দায়িত্বে ছিলেন তাঁরাই। ওই কোম্পানির কাছে রক্ষিত ডেটা বেস দেখেই আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। কোম্পানির কাছে যাঁদের নাম ছিল না, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা বাদ পড়েছেন! যোগ্য মহিলারা কেন বাদ গেলেন? তার খোঁজ করতে গিয়ে গোয়ন্দাদের সার্ভেতে এই তথ্য উঠে এসেছে। এমনকি, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভের ক্ষেত্রে ওই ভোটকুশলী সংস্থার কর্মীদের একটি বড়ো অংশের উসকানিও ছিল বলে তাঁরা জেনেছেন।

    বহু মহিলা আবেদন করেও অন্নপূর্ণার টাকা পাননি। অথচ তাঁদের অধিকাংশই যোগ্য ছিলেন। এনিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় রেললাইন অবরোধ পর্যন্ত হয়েছে। যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গলদ ছিল নাকি সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই কেউ কেউ এই কাণ্ড করেছেন, তা জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। গ্রামীণ এলাকায় পঞ্চায়েত, বিডিও, এসডিও প্রভৃতি বিভিন্ন সরকারি অফিসে চুক্তিভিত্তিক কাজ করছেন ভোটকুশলী সংস্থার কর্মীরা। শহরের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানেও তাঁরা আছেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপকদের তালিকা গ্রাম ধরে ভোটকুশলী সংস্থার কর্মীদের কাছে ছিল। নতুনদের এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্তি তাঁদের হাত ধরেই হত। তৃণমূল-অধ্যুষিত গ্রামের মহিলারা সকলেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন। বিরোধীদের দখলে থাকা গ্রামগুলির সংখ্যাগরিষ্ঠ মহিলা আবেদন করেও টাকা পাননি। এই ডেটা বেস ওই কোম্পানির কাছে ছিল। পালাবদলের পর তাঁরা এখনো বিভিন্ন সরকারি জায়গায় কাজ করছেন। 

    নতুন সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার টাকার জন্য আবেদনকারীদের নথি যাচাই শুরু করেন এই সংস্থার চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা। এক্ষেত্রে নথির পরিবর্তে তাঁদের কাছে রক্ষিত ডেটাবেসকে বেশি গুরুত্ব দেন। বিরোধী দল করার ‘অপরাধে’ যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন না তাঁরা আবেদন করেও বাদ পড়েন। কারণ ডেটা বেসে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের নাম ছিল না। এই কারণে যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও বহু মহিলার নাম বাদ পড়েছে। ওই সংস্থার কর্মীদের এই ‘র্কীতি’ জানার পরেই যাচাইয়ের কাজ থেকে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই কোম্পানির কাছে রক্ষিত ওই ডেটা বেসও নিয়ে নেওয়া হয়েছে। কীভাবে সরকারি ডেটা বেস একটি বেসরকারি সংস্থা পেয়ে গেল, তা নিয়ে পৃথক অনুসন্ধান চলছে।
  • Link to this news (বর্তমান)