নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও কলকাতা: বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির সুযোগ। ইনস্টাগ্রামে এমনই টোপে ‘বন্ধুত্বের’ ফাঁদে ফেলে জগৎবল্লভপুরের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে কলকাতায় ডেকে এনেছিল আন্তঃরাজ্য সাইবার অপরাধের একটি চক্র। ধর্মতলায় পৌঁছনোর পর নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে নাবালিকাকে আটকে রেখে পরিবারের কাছে তিন লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয় বলে অভিযোগ। টাকা না দিলে খুন, এমনকি অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার তদন্তে নেমে মাত্র ৪৮ ঘন্টার মধ্যে নাবালিকাকে উদ্ধার করেছে হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, জগৎবল্লভপুরের শংকরহাটির-২ এলাকার ওই ছাত্রীকে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে বিদেশে পড়াশোনা ও চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই প্রলোভনে পড়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর স্কুলে যাওয়ার কথা বলে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে বাড়ি থেকে বেরোয় সে। স্থানীয় কয়েকজন বন্ধুর কাছ থেকে কিছু টাকা ধার করে বাসে ধর্মতলায় পৌঁছয়। আগে থেকেই নিউ মার্কেট এলাকায় একটি হোটেলে ঘর বুক করে রেখেছিল অভিযুক্তেরা। সেখানে পৌঁছনোর পরই পরিস্থিতি বদলে যায় বলে অভিযোগ। এদিকে মেয়ের ফোন বন্ধ থাকায় উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে পরিবার। পরিবারের দাবি, রাতের দিকে নাবালিকার হোয়াটসঅ্যাপ থেকেই ফোন করে জানানো হয়, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। তিন লক্ষ টাকা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। পরিবার সেদিনই জগৎবল্লভপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিল। তবে ফোনে হুমকি আসতেই অপহরণের বিষয়টি জানানো হয় পুলিশকে।
এরপরেই হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের সাইবার সেল, রাজ্য পুলিশের সাইবার সেল এবং চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সহযোগিতায় তদন্ত শুরু হয়। মুক্তিপণের ফোন, মোবাইলের সূত্র এবং লোকেশন ট্র্যাক করে তদন্তকারীরা নিউ মার্কেটের হোটেলটির সন্ধান পান। বুধবার হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ, রাজ্য পুলিশের সাইবার শাখা ও নিউ মার্কেট থানার পুলিশ যৌথভাবে সেখানে হানা দিয়ে নাবালিকাকে উদ্ধার করে। তবে ঘরে কোনও অভিযুক্তকে পাওয়া যায়নি। এখন ওই হোটেলটি কার নামে বুক করা হয়েছিল, বুকিংয়ের সময় কী পরিচয়পত্র জমা দেওয়া হয়েছিল এবং কারা ঘরটি নিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল, ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর এবং হোটেল বুকিংয়ের সূত্র ধরেও চলছে তদন্ত। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এর পিছনে বিহার, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ বা হরিয়ানার কোনও আন্তঃরাজ্য চক্র থাকতে পারে। হাওড়া গ্রামীণের পুলিশ সুপার অমিত ভার্মা জানান, ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পেশ করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। চক্রের পর্দাফাঁসই এখন পুলিশের লক্ষ্য।