• হয়নি পুলিশ ভেরিফিকেশন, কলকাতায় প্রায় ৪২ হাজার পাসপোর্টের আবেদন ফাইলবন্দি! দ্রুত ‘এনকোয়ারি’ শেষে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ লালবাজারের
    বর্তমান | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দ্রুত ‘এনকোয়ারি’ শেষ করে পাসপোর্টের পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট জমা করতে হবে। যাতে বকেয়া পাসপোর্ট আবেদনের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনা যায়। কলকাতার সব থানা এবং সিকিউরিটি কন্ট্রোলকে এই নির্দেশ দিল লালবাজার। 

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, ‘পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট জমা না পড়ায়, খাস কলকাতাতে প্রায় ৪২ হাজার পাসপোর্টের আবেদন ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে।’ ফলে সমস্যায় পড়েছেন কলকাতার বাসিন্দারা। নতুন পাসপোর্ট হলে তো কথাই নেই। পুরানো পাসপোর্ট রিনিউয়ালের ক্ষেত্রেও গড়ে ৫০ থেকে ১৮০ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে! তুলনামূলকভাবে রাজ্য পুলিশের এলাকায় এখন দ্রুত পাসপোর্ট মিলছে। কলকাতায় পরিস্থিতি এতটাই জটিল  হয়ে উঠেছে যে, ‘তৎকাল’ পাসপোট  শব্দটি এখন কার্যত আমজনতার কাছে রসিকতা বলে মনে হচ্ছে! শিক্ষা, চাকরি এবং চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজনে হঠাৎ করে কাউকে বিদেশ যেতে হলে, চুড়ান্ত হয়রানি শিকার হতে হচ্ছে। 

    এমন নয়, যে বিষয়টি অজানা কলকাতা পুলিশের কর্তাদের। গত শুক্রবার হঠাৎ করে পাসপোর্ট ইস্যুতে লালবাজারে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকে কলকাতার সব ডিভিশনের ডিসি’রা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এই বৈঠকের পরই কলকাতার সব থানা এবং সিকিউরিটি কন্ট্রোলকে দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা পাসপোর্টের পুলিশ ভেরিফিকেশন দ্রুত শেষ করে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, পাসপোর্ট নিয়ে এতদিনে কেন ঘুম ভাঙল লালবাজারের কর্তাদের।

    কেন পাসপোর্ট নিয়ে এত জটিলতা কলকাতায়? কলকাতা পুলিশের এক সূত্রের কথায়, ‘বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই কলকাতায় পাসপোর্টের পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। তারপর এসআইআর শেষে এই জটিলতা আরও বেড়েছে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় কলকাতায় ফ্ল্যাটের মালিকের কাছে রাজ্যের প্রত্যন্ত জেলায় থাকা  পৈত্রিক সম্পত্তির দলিল, একযুগ আগে প্রয়াত বাবা-মায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট চাওয়া হচ্ছে। এতেই  বাড়তি সময় যাচ্ছে বলে অভিযোগ। তাছাড়া এতকাল  বার্থ সার্টফিকেট, আধার, ভোটার কার্ড যাচাই করতেন দারোগারা। কিন্তু বছর খানেক ধরে, এইসব নথি যে সংস্থা  ইস্যু করেছে, তার কাছে যাচাই করতে পাঠানো হচ্ছে। ফলে আঠারো মাসে বছর হয়ে দাঁড়িয়েছে!’

    এদিকে, পাসপোর্ট ইস্যুতে কলকাতার  থানার ওসিদের একাংশ বলছেন, ‘এমনিতেই থানায় দারোগা নেই। তারপর রোজকার থানার কাজ সামলে পাসপোর্টের ভেরিফিকেশন করতে হচ্ছে একজন অফিসারকে। পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের জন্য সব থানাতে বহুদিন আগে ট্যাব দিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। তার সিংহভাগ খারাপ হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে।’
  • Link to this news (বর্তমান)