ভাঙড়ে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সেঞ্চুরি পার, চিন্তায় বাসিন্দারা
বর্তমান | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, বারুইপুর: ডেঙ্গু বেশ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ভাঙড় বিধানসভার একটি ব্লকেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সেঞ্চুরি পার করেছে, আরেকটি হাফ সেঞ্চুরি। স্বাস্থ্যদপ্তরের ৩৫ তম সপ্তাহ পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সময়ে ভাঙড় ১ ও ২ ব্লকে ডেঙ্গু ধরা পড়েছে যথাক্রমে ৫৮ ও ১০৫ জনের। গতবার এই সময়ে দু’টি ব্লকে ২৫ জন করে আক্রান্ত ছিলেন। তবে একটাই স্বস্তি, এখনো পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
জেলার মধ্যে তো বটেই, রাজ্যে সর্বাধিক আক্রান্ত ব্লকগুলির মধ্যেও স্থান পেয়েছে এই দু’টি ব্লক। কিন্তু কেন এখানে এমন পরিস্থিতি? জানা গিয়েছে, কচুপাতায় ও গোড়ায় জল জমছে। স্বাস্থ্য অফিসাররা তার প্রমাণও পেয়েছেন। বাড়িতে বাঁশের মাথায় জমছে জল, যা পরিষ্কার করা হচ্ছে না। সেখানেও লার্ভা পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া সচেতনতার অভাব ও পঞ্চায়েতের ভেক্টর কন্ট্রোল টিম ঠিক মতো কাজ না করার সমস্যাও রয়েছে। এই দুই ব্লকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য, পঞ্চায়েত সহ বিভিন্ন মহলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা স্বাস্থ্যজেলার অফিসাররা। নজরদারি ও পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, বারুইপুর মহকুমায় চলতি বছরে এই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২১৭। গত বছরে এই সময়ে সেটি ছিল ১৫৮ জন। ভোটের আগে থেকেই বিভিন্ন পঞ্চায়েতের কাজকর্ম এক প্রকার থমকে গিয়েছিল। পালাবদলের পর পরিষেবা লাটে ওঠে অনেক জায়গায়। ফলে মশার লার্ভা বৃদ্ধি পেয়েছে, বেড়েছে ডেঙ্গুর সংখ্যা। বারুইপুর পুরসভা এলাকায় তিনটি বেসরকারি স্কুলে ও সর্ষের তেলের মিলে মশার লার্ভার হদিশ পেয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাঁদেরকে কড়া ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে। তাছাড়া অনেক স্কুলেই বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে কর্মীদের। ফলে সেখানে কী হাল, সেটা বোঝার উপায় নেই। তবে কিছুটা হলেও পরিস্থিতি ভালো ক্যানিং মহকুমায়। এখানে এই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ডেঙ্গু। গতবার এই সময়ে যেখানে ৫৮ জন আক্রান্ত ছিলেন, সেখানে এবার এখনো এই রোগে আক্রান্ত ৩৮ জন। আলিপুর সদর মহকুমাতেও (৬৪) এবার অনেকটা কম রয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। গতবার এই সময়ে সেটা ছিল ৮৪। উল্লেখ্য, গোটা স্বাস্থ্যজেলায় এখনো পর্যন্ত ৩২৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন।