আজকাল ওয়েবডেস্ক: আজ ১১ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট। ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন্স-এর ডাকে এই ধর্মঘট শুরু হয়েছে। পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং সপ্তাহ চালু করা, নতুন পিএলআই ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং পেনশন সংক্রান্ত একাধিক দাবিতে এই কর্মসূচি নিয়েছে ব্যাঙ্ক কর্মী ও অফিসারদের সংগঠনগুলি।
এই ধর্মঘটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির পরিষেবায়। বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাঙ্কগুলিতেও আংশিকভাবে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে শুক্রবার ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে কাজ সারতে হলে গ্রাহকদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
ধর্মঘটের জেরে নগদ টাকা জমা ও তোলা, চেক ক্লিয়ারেন্স, ঋণ সংক্রান্ত কাজ এবং অন্যান্য শাখাভিত্তিক পরিষেবা ধীরগতির হতে পারে অথবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকতে পারে। তবে ATM, UPI, ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং এবং মোবাইল ব্যাঙ্কিংয়ের মতো ডিজিটাল পরিষেবা চালু থাকার কথা। যদিও ধর্মঘটের কারণে কোথাও কোথাও পরিষেবায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।
গ্রাহকদের ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে এসবিআই এবং ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক। ধর্মঘটের কারণে ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছে দুই ব্যাঙ্কই। তাই জরুরি লেনদেন থাকলে গ্রাহকদের আগে থেকেই ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার হওয়ায় এর পরেই রয়েছে সপ্তাহান্তের ছুটি। আবার কয়েকটি রাজ্যে ১৪ সেপ্টেম্বর গণেশ চতুর্থীর ছুটিও রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে কোনও কোনও গ্রাহককে টানা চার দিন পর্যন্ত ব্যাঙ্কের শাখাভিত্তিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হতে হতে পারে।
এটি অবশ্য এক দিনের ধর্মঘটেই শেষ হচ্ছে না। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে দাবিগুলি নিয়ে সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত ‘যত দ্রুত সম্ভব’ পদক্ষেপের আশ্বাস ছাড়া কোনও উন্নতি হয়নি। সেই কারণেই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে ২৮, ২৯ এবং ৩০ সেপ্টেম্বর ফের ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এরপরও দাবি পূরণ না হলে ২৬ অক্টোবর থেকে লাগাতার ধর্মঘটের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফে পরিষেবা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও, শাখাভিত্তিক পরিষেবায় কতটা প্রভাব পড়বে তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক ও এলাকার কর্মীদের অংশগ্রহণের উপর। তাই জরুরি ব্যাঙ্কিং কাজ থাকলে গ্রাহকদের আগে থেকেই পরিকল্পনা করে নেওয়াই ভাল।