আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে কলকাতা লিগের প্রিমিয়ার ডিভিশনের সুপার সিক্স পর্ব। প্রথম ম্যাচেই কোল ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে ৫-১ গোল জিতেছে মোহনবাগান। কিন্তু আনন্দের মাঝেই সূচি নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে সবুজ মেরুন শিবিরে। প্রাথমিকভাবে এদিনই হওয়ার কথা ছিল ইস্টবেঙ্গল-ইউনাইটেড স্পোর্টস ম্যাচও। কিন্তু খেলার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সূচি বদলে ফেলা হয়। ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ একদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়। শুক্রবার ঘরের মাঠে ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে খেলবে লাল হলুদ ব্রিগেড। সুপার সিক্সের সূচি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বাস্তব রায়। বাগান কোচের দাবি, একই দিনে ম্যাচগুলো রাখা উচিত ছিল। বাস্তব বলেন, 'সুপার সিক্সের সূচি সঠিকভাবে হওয়া উচিত ছিল। একই দিনে ম্যাচগুলো রাখা উচিত। সব ম্যাচই একসঙ্গে হলে ভাল হত। আমি এই নিয়ে আগেও বলেছি। কিন্তু শুধুমাত্র আমার কথায় তো আর সিদ্ধান্ত বদলাবে না।'
সিনিয়রদের নিয়ে ডার্বি ড্রয়ের পর কম সমালোচিত হননি বাস্তব রায়। এদিনের বড় জয়ে শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে গোলের ব্যবধান আরও না বাড়াতে পারার আক্ষেপ রয়েছে। প্রথমার্ধে পাঁচ গোলের পর, দ্বিতীয়ার্ধ গোলশূন্য। কেন পরের ৪৫ মিনিট গোলের খাতা খুলতে পারল না বাগান? চোটকেই দায়ী করলেন কোচ। বাস্তব বলেন, 'জিতলে সবার স্বস্তি, না জিতলে অস্বস্তি।দুটো ফোর্সড চেঞ্জ করতে হয়েছে। লিস্টন হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পায়। রবিলাল মান্ডিকেও চেঞ্জ করতে হল। ছ'জন ভূমিপুত্রকে রেখে পরিবর্তন করতে হয়েছে। তবে গোল না খেলেই ভাল হত।' এদিন স্টপারে নড়বড়ে দেখায় শুভাশিস বসুকে। কিন্তু তাঁর পাশেই দাঁড়ান বাগান কোচ। বাস্তব বলেন, 'শুভাশিসকে নিয়ে আলাদা কিছু বলার নেই। ও টিমের লিডার এবং অধিনায়ক।'
এদিনের পাঁচ গোলের মধ্যে সেরা সন্দীপ মালিকের গোল। বল মাটিতে পড়ার আগেই চলন্ত বলে সাইড ভলি। বৃহস্পতি বিকেলে নজর কাড়েন। মাঝমাঠে দাপটের সঙ্গে খেলেন প্রতিভাবান তরুণ। অথচ ডার্বিতে সুযোগ পাননি। তাঁর মতো জুনিয়রদের উপেক্ষা করে, সুযোগ দেওয়া হয় সিনিয়রদের। ডার্বি না খেলার আক্ষেপ অবশ্য নেই সন্দীপের। বরং, সিনিয়রদের থেকে শেখার অপেক্ষায় তিনি। এই ধরনের গোল প্রথম নয়। তবে সবুজ মেরুন জার্সিতে প্রথম। ম্যাচের সেরা সন্দীপ বলেন, 'আমি এরকম গোল আগেও করেছি। তবে মোহনবাগানের জার্সিতে প্রথম। ডার্বি না খেলার কোনও আক্ষেপ নেই। বরং, সিনিয়রদের সঙ্গে খেলে ভাল লাগল।' গ্রুপ পর্বে শীর্ষস্থানে শেষ করা কোল ইন্ডিয়ার রক্ষণ এদিন খড়কুটোর মতো ভেঙে পড়ে। কোচ নাসিম আলি জানান, প্রথম দলের আট, ন'জন ফুটবলারকে না পাওয়ার খেসারত দিতে হয়েছে। সুপার সিক্সের পরের দুটো ম্যাচ জিতে খেতাব লড়াইয়ে ভেসে থাকাই লক্ষ্য।