বিহারে ফের নির্মীয়মাণ সেতুতে বড়সড় দুর্ঘটনা। এ বার বৈশালী জেলার লালগঞ্জে ভারতমালা প্রকল্পের অধীনে তৈরি হওয়া একটি সেতুর নির্মাণকাজ চলাকালীন ভারী লঞ্চার (launching girder machine) ভেঙে পড়ে আহত হলেন সাত শ্রমিক। বৃহস্পতিবারের এই ঘটনায় এক শ্রমিকের পা ধ্বংসাবশেষের মধ্যে আটকে যায়। পরে যন্ত্রের সাহায্যে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর নেই।
ঘটনাটি ঘটেছে লালগঞ্জ থানার অন্তর্গত জলালপুর পঞ্চায়েত এলাকায়। সেখানে ভারতমালা প্রকল্পের অধীনে NH-139W-এর চার লেনের রাস্তা ও সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত একটি ‘লঞ্চিং গার্ডার’ আচমকাই ভারসাম্য হারিয়ে ভেঙে পড়ে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ এবং NHAI-এর তরফে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’র কথা বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনার সময়ে ঘটনাস্থলে কাজ করছিলেন বেশ কয়েক জন শ্রমিক। লঞ্চারটি আচমকা ভেঙে পড়ায় তাঁরা আহত হন। তাঁদের মধ্যে এক শ্রমিকের পা ভারী ধ্বংসাবশেষের নীচে আটকে যায়। উদ্ধারকারীরা পরে মেশিন ব্যবহার করে ধ্বংসাবশেষ কেটে তাঁকে বার করে আনেন। সাত জন আহতের মধ্যে চার জনের চোট তুলনামূলক ভাবে কম। বাকি তিন জনকে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে বলে বৈশালী পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।
NHAI-এর এক আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, বাকরপুর-মানিকপুর অংশে নির্মাণাধীন চার লেনের সেতুতে লঞ্চিং গার্ডার সরানোর সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেতুর মূল কাঠামোর কোনও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রাথমিক ভাবে আশ্বস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। আহত শ্রমিকদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নির্মাণকাজে নিরাপত্তাবিধি যথাযথ ভাবে মানা হয়েছিল কি না, লঞ্চারটির যান্ত্রিক অবস্থাই বা কেমন ছিল—এই বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
এই দুর্ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বিহারে নির্মাণকাজের মান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। কারণ, মাত্র চার মাস আগেই ভাগলপুরের বিক্রমশিলা সেতুর একটি অংশ গঙ্গায় ভেঙে পড়েছিল। তারও আগে ২০২৪ সালে মাত্র ২০ দিনের মধ্যে বিহারে একাধিক সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছিল। সেই সময়ে একাধিক সরকারি ইঞ্জিনিয়ারকে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।
বৈশালীর দুর্ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিহার সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন RJD নেতা তথা বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব। সমাজমাধ্যমে তিনি এই ঘটনাকে বিহারে ফের একটি সেতু বিপর্যয় হিসেবে তুলে ধরে নির্মাণের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তেজস্বীর অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী, নির্মাণের গুণমানের ঘাটতি, নিরাপত্তা অডিটে অনিয়ম এবং নিয়মকানুন না মানার কারণেই বারবার এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। তিনি NDA সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন এবং আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সরকার ঘটনার প্রকৃত কারণ সামনে আনার বদলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। প্রাথমিক তদন্তে লঞ্চিং গার্ডার ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা বলা হলেও, নির্মাণকাজে নিরাপত্তার কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে। আপাতত আহত সাত শ্রমিকের চিকিৎসাই প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।
বৈশালীর লালগঞ্জে ভারতমালা প্রকল্পের অধীনে নির্মীয়মাণ একটি সেতুর কাজে ব্যবহৃত লঞ্চিং গার্ডার ভেঙে পড়ে। ঘটনায় সাত জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনায় মোট ৭ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিন জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হ্যাঁ। এক শ্রমিকের পা ভারী ধ্বংসাবশেষের নীচে আটকে যায়। পরে উদ্ধারকারী দল যন্ত্রের সাহায্যে তাঁকে বের করে আনে।
প্রাথমিক ভাবে লঞ্চিং গার্ডারের প্রযুক্তিগত ত্রুটির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষ হওয়ার পরই নিশ্চিত হবে।
ভারতমালা প্রকল্পের অধীনে NH-139W-এর চার লেনের রাস্তা ও সেতু নির্মাণের কাজ চলছিল। সেই নির্মাণকাজের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর নেই।
RJD নেতা তথা বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব দুর্ঘটনা নিয়ে বিহার সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তিনি নির্মাণের গুণমান, নিরাপত্তা অডিট এবং নিয়ম মেনে কাজ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
বিহারে এর আগেও একাধিক সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক সেতু বিপর্যয়ের পর নির্মাণের মান ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।