• ‘কাশ্মীরিদের জেলে পাঠাতে চান?’ বন্দে মাতরম্ বিতর্কে কংগ্রেসকে তোপ মুখ্যমন্ত্রী ওমরের, ফাটল ‘ইন্ডিয়া’য়?
    এই সময় | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • জম্মু-কাশ্মীরের সরকারি অনুষ্ঠানে কেন বন্দে মাতরম্ পুরো গাওয়া হলো, তা নিয়ে বিবাদে জড়িয়েছে ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) এবং জোটসঙ্গী কংগ্রেস। সেই বিতর্কে এ বার মুখ খুললেন এনসি নেতা তথা জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লা। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপ দেগে ওমরের প্রশ্ন, ‘আপনারা কি কাশ্মীরিদের জেলে পাঠাতে চান?’ প্রশ্ন উঠছে, ‘বন্দে মাতরম্’ ঘিরে এই বিতর্কে জেরে কি এ বার সারা দেশে বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’য় ফাটল দেখা দেবে?

    কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদীর সরকার ‘বন্দে মাতরম্’ পুরো গাওয়ার কথা বললেও, কংগ্রেস গানটির প্রথম দু’টি স্তবকই গাওয়ার পক্ষে সওয়াল করে এসেছে। সেই মতো এনসি-কে সেই নীতি মেনে চলারই আহ্বান করেছিল কংগ্রেস। কিন্তু তা অগ্রাহ্য করে শ্রীনগরে আয়োজিত জম্মু-কাশ্মীর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মুখ্যমন্ত্রী ওমর এবং এনসি-র সভাপতি ফারুকের উপস্থিতিতে ‘বন্দে মাতরম্’-এর সম্পূর্ণ সংস্করণ গাওয়া হয়। তা নিয়েই বিবাদ বেধেছে ‘ইন্ডিয়া’র এই দুই শরিক দলের।

    ওমরের যুক্তি, দেশে সর্বত্র সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্’ পুরো গাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তা না মানলে কেন্দ্র কড়া পদক্ষেপ করতে পারে। জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই আইন সারা দেশে কার্যকর হয়েছে। কংগ্রেস কি কাশ্মীরিদের জেলে পাঠাতে চাইছে? দলীয় ভাবে আমরা কখনও বন্দে মাতরম্-কে গ্রহণ করিনি। ভবিষ্যতেও করব না। কিন্তু আইনি বাধ্যবাধকতা মাথায় রাখতে হয়।’

    প্রসঙ্গত, উপত্যকার সরকারি অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম্ পুরো গাওয়ার ভিডিয়োটি পোস্ট করে কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপাল এক্স হ্যান্ডলে লিখেছিলেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামীদের হাত ধরে ভারতের বৈচিত্র্যময় এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে, তার সঙ্গে খাপ খায় না বন্দে মাতরম্-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ।’ কংগ্রেস স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, মহাত্মা গান্ধী, পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, সুভাষচন্দ্র বসু, রাজেন্দ্র প্রসাদ, মৌলানা আজ়াদ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শে গানের যে নির্দিষ্ট অংশ বেছে নেওয়া হয়েছিল, কংগ্রেস এখনও সেই নীতিই মেনে চলে। রাহুল গান্ধীদের বক্তব্য, জোটশরিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের নির্দেশের কাছে মাথানত না করে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তকেই সম্মান জানানো উচিত।

    তার প্রেক্ষিতে এনসি-র নেতা বশির আহমেদ বলেছিলেন, ‘জোটসঙ্গী হিসেবে আপনারা শর্ত চাপিয়ে দিতে পারেন না। আপনারা বলে দিতে পারেন না যে, কতটা গান গাওয়া হবে বা কীভাবে গাওয়া হবে। বেণুগোপালজির টুইট করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু উনি এটা অন্যদের উপরে চাপাতে পারেন না। গান গাওয়াটা মানুষের নিজস্ব পছন্দ। আমরা কারও উপর কিছু চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে।’

    এ নিয়ে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে ছাড়েনি বিজেপিও। দলের মুখপাত্র তথা সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী বলেছিলেন, ‘বন্দে মাতরম্ পুরো গাওয়া নিয়ে কংগ্রেসের আপত্তি প্রমাণ করে যে, দলটির চিন্তাভাবনা এখন দিমাগি নকশালে পরিণত হয়েছে। ওরা এখন নতুন মুসলিম লিগ। মতাদর্শের কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করেছে কংগ্রেস।’

  • Link to this news (এই সময়)