দরবারি কানাড়ায় ‘ঝনক ঝনকবা’ গাইছেন পণ্ডিত ভীমসেন জোশী। সুর ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। আর মন্ত্রমুগ্ধের মতো বসে মাথা নাড়ছে পাঁচটি খুদে ওরাংওটাং। যেন বুঁদ হয়ে রয়েছে। ওডিশার নন্দনকানন জু়লজিক্যাল পার্কের এমন দৃশ্য দেখে চমকে গিয়েছেন চিড়িয়াখানার কর্মীরা।
গত ৮ সেপ্টেম্বর রাঙ্কোঠা বড়পাহাড় থেকে পাঁচটি ওরাংওটাংকে উদ্ধার উদ্ধার করেছিলেন বনকর্মীরা। তার পরে তাদের রাখা হয় নন্দনকানন জু়লজিক্যাল পার্কে। কিন্তু মা নেই। তার উপরে নতুন পরিবেশ। ভয়ে ভয়ে ছিল খুদেরা। আচরণে অস্থিরতার ছাপ। একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে মুখ অদ্ভুত শব্দ করছিল তারা। পার্কের কর্মীরা বুঝেছিলেন, মানসিক চাপে রয়েছে ওরা।
খুদেদের দুশ্চিন্তা কাটাতেই অভিনব পথ বেছে নেন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। তাদের সামনে বাজানো হয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত। শান্ত, ধীর লয়ের গান। নন্দনকানন চিড়িয়াখানার ডেপুটি ডিরেক্টর প্রদীপ মিরাসে জানিয়েছেন, বিভিন্ন গবেষণাপত্র পড়ে এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মানসিক চাপ কমানোই মূল লক্ষ্য।
শুধু গানই নয়, ওরাংওটাংগুলির জন্য ঝোলানো হয়েছে দোলনা। দেওয়া হয়েছে তুলতুলে নরম খেলনা। যাতে জড়িয়ে ধরতে পারে। সূত্রের খবর, কর্তৃপক্ষের এই চেষ্টা বেশ কাজেও দিচ্ছে। প্রথমে খুব ভয় পেলেও এখন তারা অনেকটাই শান্ত। অ্যানিম্যাল কিপারদের সঙ্গেও ভাব জমে উঠেছে পাঁচ খুদের। ওরাংওটাংগুলি এখন খেলাধুলো করছে। উঠে যাচ্ছে জানলা বেয়ে। দৌড়ঝাঁপ করছে খুব।
চারটি ওরাংওটাংয়ের বয়স এক বছরেরও কম। মাত্র একটি বাচ্চাই নিজে হাতে কলা খেতে পারছে। বাকি চারটিকে সেদ্ধ আপেল, কলা আর ‘সিমিল্যাক’ নামে একটি কম-ল্যাকটোজ যুক্ত খাবার খাওয়ানো হচ্ছে।
প্রায় চার সপ্তাহের জন্য তাদের রাখা হয়েছে আলাদা কোয়ারেন্টাইনে। এই সময়ে তাদের স্বাস্থ্যের উপর নজর রাখা হবে। শরীরের অবস্থা ঠিক থাকলে পরে রোদ পোহানোর জন্য তাদের অন্য এনক্লোজারে নিয়ে যাওয়া হবে।
তবে ভারতে ওরাংওটাং সামলানোর অভিজ্ঞতা কম জনেরই রয়েছে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ বিশ্বজিৎ মহন্তের মতে, থাইল্যান্ড বা সুমাত্রার বিশেষজ্ঞ রেস্কিউ সেন্টারের সাহায্য নেওয়া জরুরি। তাঁর কথায়, ‘দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা এবং পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা দরকার। তাই এখনই তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।’