• থেঁতলানো মাথা, ঘরে পড়ে মা ও ৩ মেয়ের রক্তাক্ত দেহ, ভয়াবহ ঘটনা জয়পুরে
    এই সময় | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • প্রতিদিন সকাল থেকে তিন মেয়ে ও বাবা-মায়ের আওয়াজে গমগম করত বাড়ি। কিন্তু শুক্রবার সকাল থেকেই অস্বাভাবিক ভাবে খাঁ-খাঁ করছিল বাড়িটা। সন্দেহ হওয়ায় ডাকাডাকি করেন প্রতিবেশীরা। কিন্তু কারও আওয়াজ মেলেনি। এর পরেই খবর যায় পুলিশে। তারা এসে দরজা ভাঙলে দেখা যায় বীভৎস দৃশ্য। রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে মা ও তিন মেয়ে। প্রত্যেকেরই মাথা থেঁতলানো। দেহে নেই প্রাণ। এ দিকে সন্ধান নেই পরিবারের কর্তার। ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুরের গোবিন্দপুরা এলাকায়।

    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড। ঘুমন্ত স্ত্রী ও তিন মেয়ের মাথায় ইট দিয়ে একের পর এক আঘাত করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে পরিবারের কর্তার বিরুদ্ধে। ঘটনায় ৪০ বছরের স্ত্রী গীতা ঝাঁ এবং তাঁর তিন মেয়ে নন্দিনী, গিরিশা ও রাধিকার মৃত্যু হয়েছে। তিন মেয়ের বয়স ১৭ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রাহুল ঝাঁ পলাতক। তবে খুনের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের সন্দেহ হয়। প্রায় সকাল ১০টা পুলিশে খবর যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চার জনের দেহ উদ্ধার করে।

    তদন্তে অনুমান, রাতে ঘুমের মধ্যেই পরিবারের চার সদস্যের উপর হামলা চালান রাহুল ঝা। অভিযোগ, ইট দিয়ে মাথায় বার বার আঘাত করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে যে ইটটি হামলায় ব্যবহার করা হয়েছিল বলে সন্দেহ, সেটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে ইটটি।

    ঘটনার সময়ে অভিযুক্তের ৮৫ বছরের বাবা বাড়িতেই ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকেও ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এ দিকে খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাড়ির সামনে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় জমে যায়।

    জয়পুর পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (পশ্চিম) প্রশান্ত কিরণ জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে কোনও পারিবারিক বিবাদ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। তবে ঠিক কী নিয়ে বিবাদ হয়েছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

    পুলিশ আধিকারিকের কথায়, অভিযুক্ত কী কারণে এমন ভয়াবহ হামলা চালিয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাহুল ঝার সন্ধানে চলছে তল্লাশি। বিশেষ পুলিশ দল জয়পুরের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। পাশাপাশি শহরের প্রবেশ ও বেরোনোর পথগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)