বেআইনি বহুতলের আড়ালে কোটি কোটি কালো টাকা সাদা করার অভিযোগ উঠেছিল আগেই। শুক্রবার এই নিয়ে সরাসরি CBI তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পরবর্তী শুনানি হবে ১৪ অক্টোবর। তার মধ্যে CBI-কে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
রাজাবাজার, বেলেঘাটা, ক্যানাল স্ট্রিট, মানিকতলা-সহ একাধিক এলাকায় বেআইনি ভাবে অন্তত ৫৫টি বহুতল গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনুমতি নেওয়া হয়নি। কে বা কারা মালিক, তা-ও অজানা। শুধু তাই নয়, এই সব বহুতলের আড়ালে কালো টাকা সাদা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
ওই অভিযোগ তুলে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে দায়ের হয় মামলা। তাতে কলকাতা পুরসভার ভূমিকা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। সাধারণ মানুষ এই নিয়ে বার বার অভিযোগ জানানোর পরেও কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেইও প্রশ্ন তোলেন তিনি। প্রধান বিচারপতি সরাসরি জানতে চান, কেন পুরসভা এতদিন হাত গুটিয়ে বসেছিল?
আদালতে কলকাতা পুরসভা জানায়, তারা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে চায়। সেই বক্তব্যেও ক্ষোভ প্রকাশ করে বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, এই ভাবে সময় নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে। প্রয়োজনে পুর কমিশনারকে আদালতে ডেকে পাঠানো হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শহরে বেআইনি নির্মাণ রুখতে টাস্ক ফোর্স গঠন করেছিল পূর্বতন তৃণমূল সরকার। সেই নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। প্রধান বিচারপতি জানতে চান, রাজ্য সরকার টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়ার পরে এই জট ছাড়াতে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে?
আদালত জানিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে যে নথিপত্র পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি কলকাতা পুরসভা এবং পুলিশের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য নিতে হবে সিবিআইকে। তদন্তের প্রয়োজনে সিট বা বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা যেতে পারে বলেও জানিয়েছে আদালত।
কোথায় কোথায় বেআইনি বহুতল তৈরির অভিযোগ উঠেছে?
রাজাবাজার, বেলেঘাটা, ক্যানাল স্ট্রিট, মানিকতলা-সহ কলকাতার একাধিক এলাকায়।
কতগুলি বহুতল নিয়ে অভিযোগ?
অন্তত ৫৫টি বহুতল বেআইনি ভাবে তৈরি হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে কীসের অভিযোগ উঠেছে?
এই বহুতলগুলির আড়ালে কোটি কোটি টাকা সাদা করার অভিযোগ উঠেছে।
কলকাতা পুরসভার ভূমিকা নিয়ে কী বলেছে হাইকোর্ট?
সাধারণ মানুষের বার বার অভিযোগের পরেও কেন পুরসভা ব্যবস্থা নেয়নি, তা নিয়ে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তুলেছেন।
CBI-কে কী দায়িত্ব দিয়েছে আদালত?
প্রাথমিক নথি খতিয়ে দেখে কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে SIT গঠন করা যেতে পারে।