• নাগাড়ে মুষলধারে বৃষ্টিতে আবার ভেসে গেল দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু, বিপর্যস্ত মিরিক
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • রাতভর নাগাড়ে মুষলধারে বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল মিরিক। ভারী বৃষ্টির জেরে বালাসন নদীতে ক্রমশ বেড়ে চলেছে জলস্তর। তারই মধ্যে দুধিয়ার কাছে আবার হিউম পাইপের অস্থায়ী সেতু ভেঙে যায়। আর তার জেরে শিলিগুড়ির সঙ্গে মিরিকের ভারী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতির জেরে ওই ব্রিজ দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সুতরাং সমস্যার মুখে পড়েছেন বহু নিত্যযাত্রী থেকে পর্যটকরাও। আর সড়কপথে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে মিরিক। এই ঘটনার জেরে ধসের আশঙ্কা করছেন অনেকেই। তাই প্রবল আতঙ্কে রয়েছেন পর্যটকরা।

    চলতি বছরের জুন মাসে নাগাড়ে বৃষ্টি এবং মহানন্দার ফুলবাড়ি ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়ায় জলস্তর বেড়ে যায় বালাসনে। ভেসে যায় অস্থায়ী দুধিয়া সেতু। শিলিগুড়ি থেকে মিরিক পর্যন্ত যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছিল সেতু মেরামতি। দ্রুত যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে সেনারা তৈরি করে বেইলি ব্রিজ। দেড় মাসের মাথায় আবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে মুষলধারে নাগাড়ে ভারী বৃষ্টি শুরু হয় উত্তরবঙ্গের নানা জায়গায়। বাড়তে থাকে নদীর জলস্তর। আর তার জেরে আবার ভেসে যায় দুধিয়ার অস্থায়ী হিউমপাইপের সেতু। এই অবস্থায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপাতত বেইলি ব্রিজ দিয়ে শুধুমাত্র ছোট যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তার জেরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচলে তৈরি হয়েছে সমস্যা।

    ইতিমধ্যেই মিরিকের একটি গ্রামেও নাগাড়ে ভারী বৃষ্টির জেরে ধস নেমেছে। খবর চাউর হতেই ঘটনাস্থলে রওনা দেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। যদিও এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। বালাসন নদীর জলস্তর বৃদ্ধির জেরে মাটিগাড়ার কয়েকটি গ্রামে নদী ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। সেচ দপ্তর এবং প্রশাসন নেমে পড়েছে কাজে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ভারী বর্ষণের জেরে পাহাড়ি নদীগুলিতে দ্রুত জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে। বালাসন নদীতেও জলস্ফীতি দেখা দিয়েছে। যার চাপেই আবার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে দুধিয়ার এই অস্থায়ী সেতু। ২০২৫ সালে দুধিয়া লোহার সেতু ভেঙে যাওয়ার পর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এই অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল।

    আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকা থেকে নিম্নচাপ সরে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে এখন অবস্থান করছে। হরিয়ানা থেকে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে গিয়েছে। যার প্রভাবে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। শুক্রবার জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে। সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বইবে দমকা বাতাস। শনিবার কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা আছে। সোমবার থেকে বৃষ্টি কমবে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)