বন্দে মাতরম ইস্যুতে ইন্ডিয়া জোটে বড়সড় ফাটল কি আসন্ন? এই ইস্যুতে কংগ্রেস এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সের মধ্যে বিবাদ ক্রমশ বাড়ছে। জম্মু ও কাশ্মীর চলচ্চিত্র উৎসবে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা (Omar Abdullah) এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লার উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ বন্দে মাতরম গাওয়া নিয়ে শরিকদলকে বিঁধেছিল কংগ্রেস। এবার ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের পালটা দিলেন ওমর আবদুল্লা।
গত সোমবার শ্রীনগরের চলচ্চিত্র উৎসবে ওমর আবদুল্লা ও ফারুক আবদুল্লার উপস্থিতিতে ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) গানটি সম্পূর্ণ গাওয়া হয়। সেসময় রীতি মেনে সেই গানটিকে সম্মান জানাতে উঠেও দাঁড়ান ন্যাশনাল কনফারেন্সের শীর্ষ নেতারা। গান না গাইলেও পুরো ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁরা। যা নিয়ে প্রবল আপত্তি জানায় কংগ্রেস। কংগ্রেসের সংগঠন-বিষয়ক সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল জোটসঙ্গী ন্যাশনাল কনফারেন্সকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তারা যেন গানটির সংক্ষিপ্ত সংস্করণ গাওয়ার বিষয়টি মেনে চলে এবং কংগ্রেসের পাশে দাঁড়ায়।
সোশাল মিডিয়ায় বেণুগোপাল লেখেন, ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণটি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সমন্বয়বাদী ও বহুত্ববাদী আদর্শের সঙ্গে খাপ খায় না। মহাত্মা গান্ধী, পন্ডিত জওহরলাল নেহরু, সর্দার প্যাটেল, সুভাষ চন্দ্র বসু, ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদ, আচার্য নরেন্দ্র দেব, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, সরোজিনী নাইডু এবং জে বি কৃপালানির বিবেচনায়, সর্বপরী গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শে জাতীয় গানের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে সিলমোহর দেওয়া হয়েছিল।’
এবার কংগ্রেসের সেই বক্তব্যের পালটা দিলেন ওমর আবদুল্লা। তিনি বলছেন, “ওটা সরকারি অনুষ্ঠান ছিল। আর কেন্দ্র সংসদে যে আইন পাশ করিয়েছে, সেই আইন আমরা সরকারি আইনে মানতে বাধ্য। সংসদে পাশ হওয়া আইন গোটা দেশে একসঙ্গে কার্যকর হয়। কাশ্মীরেও হয়। না মানলে জেলে যেতে হবে। কংগ্রেস কি চায় কাশ্মীরিরা জেলে যাক?” ওমর আবদুল্লার সাফাই, “দল হিসাবে ন্যাশনাল কনফারেন্স কোনওদিন বন্দে মাতরমের পূর্ণাঙ্গ বন্দেমাতরমের পক্ষে নয়। কিন্তু এই সামান্য বিষয়ের জন্য আমরা জেল যেতেও রাজি নই।”