‘সুপার সুখোই’ থেকে অত্যাধুনিক পন্টসার মিসাইল! আজই মোদি-পুতিন বৈঠকে চূড়ান্ত হবে অস্ত্রচুক্তি?
প্রতিদিন | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
BRICS সম্মেলনে যোগ দিতে তিন দিনের ভারতে এসেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। তার আগে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন রুশ প্রেসিডন্ট। সরকারি সূত্রের খবর, এই বৈঠকেই মস্কোর প্রস্তাব মেনে যৌথ উদ্যোগে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান ‘সুখোই এসইউ-৫৭’ নির্মাণের বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।
আগেই জানা গিয়েছিল, দিল্লির বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি ছাড়াও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র নিয়েও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে কথা বলবেন মোদি-পুতিন। সেই মতোই ‘সুখোই এসইউ-৫৭’ যুদ্ধবিমান চুক্তির পাশাপাশি ভারতীয় বায়ুসেনার ব্যবহৃত সুখোই-৩০ এমকেআই (সুপার সুখোই)-এর আধুনিকীকরণ এবং আরও এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ ও পন্টসার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে হাই প্রোফাইল এই বৈঠকে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মোদির আমেরিকা সফরের সময়ই ভারতকে ‘এফ-৩৫ লাইটনিং২’ যুদ্ধবিমানের ‘এফ-৩৫এ’ মডেলটি বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। অন্যদিকে গত মার্চ মাসে ভারতকে ‘এসইউ-৫৭ই’ (এসইউ-৫৭-র এক্সপোর্ট ভ্যারিয়েন্ট) যুদ্ধবিমানের ‘যৌথ উৎপাদন’ এবং ‘সম্পূর্ণ প্রযুক্তি হস্তান্তরে’র প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া। গোটা বিশ্বের কৌতূহল ছিল বৈশ্বিক টানাপোড়েনের মধ্যে কোন দিকে ঝুঁকবে ভারত। সরকারি সূত্রের দাবি, শেষ পর্যন্ত ছ’দশকের পুরনো সামরিক সহযোগী রাশিয়ার উপরেই ভরসা রাখছে দিল্লি।
সুপার সুখোই
ভারতীয় বায়ুসেনার বর্তমান প্রধান যুদ্ধবিমান সুখোই এসইউ-৩০এমকেআই-এর আধুনিকীকরণ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পুরনো বিমানগুলিকে প্রায় পঞ্চম প্রজন্মের সমকক্ষ করে তোলা হবে। থাকবে দেশীয় প্রযুক্তির রাডার, উন্নত ককপিট ও এভিওনিক্স। সুরক্ষা ব্যবস্থা হবে অনেক বেশি মজবুত। শত্রুর রাডারে সহজ ধরা পড়বে না। ব্রহ্মস, অস্ত্র এবং রুদ্রম-এর মতো দূরপাল্লার ও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম হবে।
পন্টসার মিসাইল
রাশিয়ার তৈরি একটি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শত্রু দেশের বিমান হামলা রুখে দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়। এটি একইসঙ্গে রাডার, মিসাইল এবং বিমানবিধ্বংসী কামান হিসেবে কাজ করে। যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং ক্রুজ মিসাইল খুব দ্রুত শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে। এই সিস্টেমে একটি মিসাইল লঞ্চার, একটি রাডার ট্রাক ও একটি কমান্ড পোস্ট থাকে। ২০ থেকে ৩৬ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে।