• যুদ্ধে পুড়ছে ইউক্রেন, হরমুজে হাহাকার, ট্রাম্পের ভ্রূ কুঁচকে দিল্লির দরবারে পুতিন-পেজেস্কিয়ান
    প্রতিদিন | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • শনিবার থেকে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে শুরু হচ্ছে অষ্টাদশতম ব্রিকস সম্মেলন। চলবে রবিবার পর্যন্ত। সেই বৈঠকে যোগ দিতে ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই শুক্রবারই ভারতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে তাৎপর্যপূর্ণভাবে দিল্লি এলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ানও। বর্তমান সময়ে আমেরিকার মাথাব্যাথার অন্যতম কারণ দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের ভারতে পা রাখার ঘটনা নিশ্চিতভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য উদ্বেগের।

    রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে ভারতের ঘাড়ে শুল্কের খাঁড়া বসানোর পাশাপাশি রুশ তেলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল আমেরিকা। যদিও সেই নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে রুশ তেল কিনে চলেছে ভারত। দিল্লিতে পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শোনা যাচ্ছে, এই বৈঠকে জ্বালানি তেল, প্রতিরক্ষা এবং রুপি ও রুবল নিয়ে বড় চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ানের এটাই প্রথম ভারত সফর। ২০২৪ সালে ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত হয়েছিল ইরান। এর পর আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের মাঝে পেজেস্কিয়ানের এই সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের জেরে হরমুজ বন্ধ করেছে ইরান। যা ভারতের জন্য বড় ধাক্কা। কারণ ভারতের প্রয়োজনের ৬০ শতাংশ তেল ওই পথেই আসে। আশা করা হচ্ছে এই সফরে জ্বালানি তেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে ইরানের সঙ্গে। কাটতে পারে জটিলতা।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এবারের ব্রিকস সম্মেলন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য যথেষ্ট মাথাব্যাথার কারণ হতে চলেছে। কারণ, ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে বিরক্ত গোটা বিশ্ব। ইরানের উপর লাগাতার হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে নাকানি-চোবানি খাচ্ছে তারা। সুবিধে মতো ডলারকে অস্ত্র করে বিশ্বের উপর দাদাগিরি ফলায় হোয়াইট হাউস। অনুমান করা হচ্ছে, এহেন দু’মুখো আমেরিকার বিরুদ্ধে একজোট হতে পারে ব্রিকস গোষ্ঠীগুক্ত দেশগুলি। দিল্লিতে নিজেদের মধ্যে বিকল্প পেমেন্ট সিস্টেম, সাপ্লাই চেইন নিয়েও আলোচনা চলছে। যা আমেরিকার জন্য মোটেই সুখের নয়।

    এসবের মাঝেই আমেরিকার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার দিল্লি আসছেন। আমেরিকার বিরোধী তালিকায় থাকা জিনপিং, পুতিন, পেজেস্কিয়ান-এর মতো নেতাদের একমঞ্চে যোগ দেওয়ার ঘটনা আমেরিকার জন্য যে মোটেই সুখের হবে না, তা নিশ্চিত করে বলা যায়। গত বছর ব্রিকসের নিজস্ব মুদ্রা বের করার বিষয়েও কথা হচ্ছিল। এবার যদি তেমন কিছু ঘটে তবে তা ডলার শাসক আমেরিকার জন্য বিরাট বিপর্যয়। স্বাভাবিকভাবেই এই ব্রিকস সম্মেলনে প্রতিটি মুহূর্ত ট্রাম্পের রক্তচাপ বাড়িয়ে তুলবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
  • Link to this news (প্রতিদিন)