দাদুর সঙ্গে আর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরা হল না, পুলিশের ভ্যান পিষে দিল চার বছরের ঋষভকে!
প্রতিদিন | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুল শেষে দাদুর সাইকেলে চেপে বাড়ি ফিরছিল ছোট্ট ঋষভ। গন্তব্য ছিল আর মিনিট কয়েকের পথ। সেসময়ই একটি পুলিশের ভ্যান সাইকেলের পিছনে ধাক্কা মারে। দাদু-নাতি ছিটকে পড়ে রাস্তায়। ছোট্ট ঋষভের উপর দিয়ে চলে যায় পুলিশের গাড়ির চাকা। কিছু সময়ের মধ্যেই মৃত্যু হল ওই চার বছরের শিশুর। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়া শহরে। ঘটনার পরেই তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যান বিধায়ক নিলাদ্রীশেখর দানা।
ওই পরিবারের বাড়ি বাঁকুড়া শহরের রাজগ্রামের রামকৃষ্ণ পল্লিতে। এলাকারই একটি স্কুলের ছাত্র সে। প্রায় প্রতিদিনই ৭০ বছর বয়সী দাদু রঞ্জিত কর্মকার তাকে স্কুলে নিয়ে যায়। স্কুল শেষে দাদুই সাইকেলে চাপিয়ে তাকে বাড়ি ফিরে আসেন। এদিন দুপুরে স্কুল থেকে অন্যান্য দিনের মতো দাদুর সাইকেলে চেপে বাড়ি ফিরছিল চার বছরের ওই শিশু। আর কিছু সময়ের মধ্যেই বাড়ি ফিরত তারা। বর্ষার কারণে রাস্তায় খানাখণ্ড হয়ে রয়েছে। বৃষ্টিতে সেসব খানাখন্দ জল জমে টইটুম্বুর।
ওই রাস্তা দিয়েই পুলিশের একটি ভ্যান যাচ্ছিল। খানাখন্দ এড়িয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের ওই ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাইকেলটির পিছনে ধাক্কা মারে। সেই ধাক্কা সামলাতে না পেরে দাদু-নাতি দু’জনেই রাস্তায় ছিটকে পড়ে। ওই পুলিশের ভ্যানের পিছনের একটি চাকা শিশুর উপর দিয়ে চলে যায়। ঘটনা ঘিরে শোরগোল ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। দ্রুত বৃদ্ধ ও ওই শিশুকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা ঋষভকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এদিকে দুর্ঘটনার পর ওই পুলিশের ভ্যানটি এলাকা থেকে চলে গিয়েছিল নিজের গন্তব্যে।
শিশুমৃত্যুর ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভ ছড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে। রাস্তা অবরোধ করা হয়। জানা গিয়েছে, পুলিশের ওই ভ্যানটি সংশোধনাগার থেকে বিচারাধীন বন্দিদের নিয়ে খাতড়া মহকুমা আদালতে যাচ্ছিল। পথে ওই দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বসতি এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি প্রয়োজন। পুলিশের গাড়ি হওয়ায় তার চালকের দায়িত্ব আরও বেশি ছিল বলেও দাবি করেন তাঁরা। ক্ষোভের জেরে দফায় দফায় রাস্তা অবরোধ হয়। পরিস্থিতির কথা জেনে ঘটনাস্থলে যান বিধায়ক নিলাদ্রীশেখর দানা। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে বিক্ষোভ তোলেন। পুলিশও ঘটনাস্থলে যায়।
পুলিশের ভ্যানটি কীভাবে যাচ্ছিল? সেটির গতিবেগ ছিল? কীভাবে ধাক্কা লাগে? পুলিশ সেসব বিষয় খতিয়ে দেখছে। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন শিশুর মা তনুশ্রী ও বাবা অরূপ কর্মকার। শোকে পাথর পরিবার। বাড়িতে কান্নার রোল উঠেছে। শিশুর মৃত্যু্তে প্রতিবেশীদের মধ্যেও শোকের ছায়া।