প্রতি শিক্ষাবর্ষে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) কাউন্সেলিং সেন্টারে আসছেন তিনশোর ওপর ছাত্র-ছাত্রী। মানসিক পরামর্শ নিতে। কারণ? পছন্দের বিষয় সাহিত্য কিন্তু মা-বাবার চাপে পড়তে হচ্ছে বিজ্ঞান নিয়ে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর কাউন্সেলিং সার্ভিস অ্যান্ড স্টাডিজ ইন সেলফ ডেভলপমেন্ট-এর অধ্যাপক সমরকুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, ছাত্র-ছাত্রীরা নানা কারণে মানসিক পরামর্শ চান। যার মধ্যে অন্যতম কারণ, মা-বাবার চাপ। ছাত্রছাত্রীরা বলেন, “আমার ইচ্ছে নেই। মা-বাবার প্রত্যাশা পূরণের জন্য পড়তে হচ্ছে সায়েন্স নিয়ে।” সমর মণ্ডলের বক্তব্য, “মা-বাবা অতৃপ্ত স্বপ্ন পূরণ করতে চান ছেলে-মেয়েকে দিয়ে। নিজেদের ইচ্ছে চাপিয়ে দেন ছেলেমেয়ের উপর। এটা ভাবেনও না ছেলেমেয়ে সাহিত্য নিয়ে পড়তে চায়। অপছন্দের বিষয় নিয়ে পড়তে গিয়ে অবসাদের শিকার হচ্ছে ছেলেটি বা মেয়েটি।”
কেন এমনটা হচ্ছে? সমরকুমার মণ্ডলের কথায়, “এর দুটো প্রধান কারণ। প্রথমত, একটা চিরাচরিত ধারণা কাজ করে বিজ্ঞান অথবা ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়লে দ্রুত অনেক বেশি আয় করা যাবে। দ্বিতীয়ত, সোশাল স্টেটাস। মা-বাবারা ভাবেন সাহিত্য নিয়ে পড়ার চেয়ে সন্তান ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়লে সমাজে আমাদের সামাজিক সম্মান বাড়বে। বাড়বে ডিগনিটি।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, লক্ষ্য করলে দেখবেন দেশজুড়ে আইআইটিতে আত্মহত্যা বাড়ছে। আইআইটি খড়গপুর, আইআইটি মুম্বই, কোটায় আত্মহত্যার খবর আসছে ফি বছর। সেখানেই ছবিটা একই। অভিভাবকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছেন না ছাত্রছাত্রীরা। শেষমেশ আত্মহত্যাকে পথ হিসাবে বেছে নিচ্ছেন। দুনিয়া জুড়ে ক্রমশ মাথাচাড়া দিচ্ছে ইঁদুরদৌড়।
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি থাকাকালীন স্কুলে স্কুলে গিয়ে তা প্রত্যক্ষ করেছেন চিরঞ্জীববাবু। অভিভাবকদের প্রতি উপাচার্যর আবেদন, ডাক্তার হতে হবে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে এমন চিন্তা ছেলেমেয়েদের মধ্যে জোর করে চাপিয়ে দেবেন না। বৃহস্পতিবার বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। একদিনের সেমিনার এর বিষয়, “আত্মহত্যা প্রতিরোধ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা।” আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর কাউন্সেলিং সার্ভিস অ্যান্ড স্টাডিজ ইন সেলফ ডেভলপমেন্ট। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিন অফ স্টুডেন্টস রাজীব পতিতৃপ্তি। উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য, সহ উপাচার্য অমিতাভ দত্ত, রেজিস্ট্রার দেবজিৎ দত্ত, ইন্টারন্যাশনাল সাইকোঅ্যানালিটিকাল অ্যাসোসিয়েশনের ক্লাইমেট কমিটির সদস্য ডা. পুষ্পা মিশ্র।