• ‘আগে কাটমানি দিতে হত’, বস্ত্র বিপণন সংস্থার আউটলেট উদ্বোধনে শিল্পবান্ধব বাংলা তৈরির বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
    প্রতিদিন | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পূর্বতন সরকারের শিল্পে অনীহা নিয়ে বারবার আলোচনা হয়েছে গত ১৫ বছরে। ঘটা করে শিল্পবাণিজ্য সম্মেলন হলেও বিনিয়োগ কার্যত শূন্য! এবার পালাবদলের পর সেই শিল্প নিয়ে আশা দেখাতে শুরু করেছে শুভেন্দু সরকার। তবে শুধু আশা নয়, বাস্তবে যে বিনিয়োগ আসছে, সেই চিত্র আরও পরিষ্কার হল শুক্রবার। এদিন সিটি সেন্টারে বিখ্যাত বস্ত্র বিপণন সংস্থার আউটলেট উদ্বোধন শিল্পবান্ধব বাংলার কথা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)।

    শুভেন্দু এদিন বলেন, “বাংলায় ১৪০টি স্টোর খুলবে। এক-দেড় বছরের মধ্যে হয়ে যাবে। ওঁরা লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে ৩ বছরের। পুরুলিয়ায় ১০০ একর জমি কিনেছে। সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট লাগাচ্ছেন। ওখানে ভূমিপুজোয় যাব। সবমিলিয়ে ১০০০ একর জমি কিনবেন ওঁরা। কর্মসংস্থান হবে। আগামী দিনে ৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে। আমি ওঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ।” পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। কীভাবে রাজ্যে বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে বাছাই করা হচ্ছে, তা-ও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “যে কোম্পানি বিনিয়োগ করতে আসছে তাদের বিশ্বাসযোগ্য কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই সংস্থা দুর্নীতির টাকায় চলছে কিনা তা দেখা হচ্ছে। শুধু ছবি তোলার জন্য নয়। আমরা সবদিক খতিয়ে দেখে শিল্প আনার চেষ্টা করছি।”

    বলে রাখা ভালো, ইতিমধ্যে রাজ্যে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের বার্তা দিয়েছে আমুল। হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে বিশ্বের অন্যতম বড় দই কারখানা গড়বে গুজরাতের এই সংস্থা। সূত্রের খবর, সেখানে বিনিয়োগের অঙ্ক প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা। প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বাংলায় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত লাক্স কোজির। বাংলায় শ্যামস্টিলও প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে রাজ্যে সেমিকন্ডাক্টর কারখানা নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে বহুজাতিক সংস্থা মিৎসুবিসি। এখানেই শেষ নয়! সরকার বদলের পরই শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করে গিয়েছেন করণ আদানি। নিউটাউন রাজারহাটে ২০০০ হাজার শয্যার অত্যাধুনিক মানের হাসপাতাল গড়বে এই সংস্থা। বদলের বাংলায় অক্সিজেন পেয়েছে তৃণমূল জমানায় বন্ধ হয়ে যাওয়া জুটমিলগুলিও। তথ্য বলছে, গত একমাসের মধ্যেই ১৫ টি জুটমিল খুলে গিয়েছে। পুরোদমে শুরু হয়েছে কাজ। সুতরাং, শিল্পখরা কেটে ক্রমশ যে বাংলার পরিস্থিতি বদলাচ্ছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
  • Link to this news (প্রতিদিন)