ভারতে প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক ‘লেবেল’ বা চিহ্ন চালু করার প্রস্তাব সুপ্রিম কোর্টে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় খাদ্য সুরক্ষা ও খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ‘ফ্যাসাই’। কোনও খাবারে উচ্চমাত্রায় ফ্যাট, চিনি ও লবণের মধ্যে অন্তত দু’টি থাকলেই প্যাকেটের গায়ে সামনের দিকে লাল ষড়ভুজ চিহ্ন বসানোর কথা বলেছে তারা। যে চিহ্ন দেখে ক্রেতারা বুঝবেন, স্বাস্থ্যের পক্ষে সেই খাবার কতটা অনুকূল। ফ্যাসাইয়ের এই প্রস্তাব নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুলল শীর্ষ আদালত।
‘থ্রি-এস অ্যান্ড আওয়ার হেলথ সোসাইটি’ নামক একটি সংস্থার দায়ের করা জনস্বার্থ মামলাটি শুনছে বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি ছিল। ভারতে নিরামিষ খাবারকে সবুজ আর আমিষ খাবারকে লাল চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করার প্রচলন রয়েছে। সেই ক্ষেত্রে নিরামিষ খাবারের প্যাকেটেও যদি সেই লাল ষড়ভুজ চিহ্ন বসানো হয়, তা হলে অনেকেই তাকে আমিষ খাবার ভেবে ভুল করতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আদালত।
ফ্যাসাই প্রস্তাব দিয়েছিল, তারা দু’টি ধাপে খাবারের প্যাকেটে সতর্কবার্তা চালু করতে চায়। প্রথম ধাপে যে সব খাবারে অন্তত দু’টি বা তার বেশি ক্ষতিকর উপাদান বেশি আছে, সেইগুলিতে সতর্কবার্তা থাকবে। আর দ্বিতীয় ধাপের ক্ষেত্রে একটি ক্ষতিকর উপাদান থাকলেই সতর্কবার্তা দিতে হবে। আদালতের প্রশ্ন, চিনি, লবণ বা চর্বি—প্রতিটি উপাদানই যদি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়, তা হলে প্রথম ধাপে দু’টি বা তার বেশি ক্ষতিকর উপাদানের শর্ত রাখার অর্থ কী? আর প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের মাঝে ঠিক কত দিনের ব্যবধান থাকবে, তা-ও ফ্যাসাইকে নির্দিষ্ট করে জানাতে হবে। কারণ, আদালতের আশঙ্কা, সময় বেঁধে দেওয়া হলে হয়তো দ্বিতীয় ধাপটি কোনও দিন চালুই হবে না।
আদালত জানিয়েছে, ষড়ভুজ চিহ্নের মাপ কতটা হবে বা তা প্যাকেটের কোথায় বসানো হবে, তা-ও স্পষ্ট নয়। তা ছাড়া একাধিক ক্ষতিকর উপাদানের জন্য আলাদা চিহ্ন থাকবে, নাকি একটাই চিহ্ন হবে— তা-ও স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে। আদালত বলেছে, সতর্কবার্তা কেবল ইংরেজিতে লেখা হলে দেশের অধিকাংশ মানুষই তা বুঝতে পারবেন না। তাই পিকটোগ্রামের মাধ্যমে বিষয়টি বোঝানো যায় কি না, তা-ও দেখতে বলেছে আদালত। চিনি বা লবণ কমাতে গিয়ে খাবার প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি কৃত্রিম রাসায়নিক বা প্রিজ়ারভেটিভের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত।
সুপ্রিম কোর্ট ফ্যাসাইকে পুরো বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে ১০ দিনের মধ্যে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে বলেছে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর।