জেলায় জেলায় বিভিন্ন খাবার দোকানে গিয়ে ফুড ভ্লগিংয়ের ট্রেন্ড শুরু হয়েছে গত কয়েকবছরে। সমাজমাধ্যমের জনপ্রিয়তাকে হাতিয়ার করে একটি মিষ্টির দোকানের নামে ভুয়ো অভিযোগ তুলে ব্ল্যাকমেলিংয়ের অভিযোগ। হাবরার এক ফুড ভ্লগারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ। অভিযুক্ত ফুড ভ্লগারের নাম সহেলী দে সূত্রধর। হাবরা থানায় তাঁর নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। যদিও ওই ফুড ভ্লগারের দাবি, তিনি চক্রান্তের শিকার হয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে অভিযুক্তের তরফে ‘শ্রীকৃষ্ণ সুইটস’ থেকে দু’টি লাড্ডু ও দু’টি সন্দেশ কেনা হয়। অভিযোগ, প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরে তাঁরা ফের দোকানে এসে মিষ্টির মধ্যে পোকা রয়েছে বলে দাবি করেন এবং তা নিয়ে দোকানে গোলমাল শুরু করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ AI দিয়ে তৈরি পোকা মেশানো ওই মিষ্টির ছবি ও ভিডিয়ো দোকানের মালিকের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ।
এখানেই শেষ নয়। সেই ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি ওই মিষ্টির দোকানের মালিক নয়ন ঘোষের। দোকান মালিকের অভিযোগ, তাঁকে বারবার ফোন করে ব্ল্যাকমেল করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমাকে বারবার ওই ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার জন্য আমার কাছে একটি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স মোবাইল ফোন ও ১০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল।’
নয়ন ঘোষের দাবি, তাঁর মিষ্টি তৈরির কারখানা আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয়। খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত নিয়ম মেনেই পরিচ্ছন্ন পরিবেশে মিষ্টি তৈরি করা হয়। ফলে এ ভাবে মিষ্টির উপরে পোকা থাকার বিষয়টি নিয়ে তাঁর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ব্যবসা ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি টাকা ও দামি ফোন আদায়ের উদ্দেশ্যেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। অভিযোগ আইফোন দাবি করা হয়। দেবীনগর এলাকার বাসিন্দা সহেলী দে সূত্রধর ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে হাবরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন নয়ন ঘোষ। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
যদিও অভিযুক্তর পক্ষে দাবি, তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে এবং তাঁরা চক্রান্তের শিকার। তবে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার জন্য টাকা ও আইফোন চাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। অভিযুক্তদের পাল্টা বক্তব্য, বিষয়টি মেটানোর প্রস্তাব হিসেবেই সেই দাবি করা হয়েছিল। গোটা ঘটনায় ভাইরাল ভিডিয়ো, হোয়াটসঅ্যাপের কথোপকথন এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছে হাবরা থানার পুলিশ।
উল্লেখ্য, নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগে গত দু’দিনে কলকাতায় একাধিক রেস্তোরাঁর ফুড লাইসেন্স সাসপেন্ড করেছে কলকাতা পুরসভা। এর মধ্যে অফিস পাড়া-সহ পার্ক স্ট্রিট এবং শহরের বিভিন্ন এলাকার একাধিক জনপ্রিয় খাবারের দোকান এবং রেস্তোরাঁ রয়েছে। বুধবার অবশ্য ওই বন্ধ রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের একাংশ একটি গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ‘এই ঘটনার পিছনে এক শ্রেণির ইউটিউবার এবং ফুড ভ্লগারদের হাত রয়েছে। ওই কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা ব্ল্যাকমেল করে টাকা দাবি করেছিলেন। সেটা না মানায় আমাদের অভিযুক্ত করা হচ্ছে।’ তবে নির্দিষ্ট ভাবে কারও নাম করেননি তাঁরা।