• ‘পুজোয় আমিষ খেতে বারণ করার আমি কে?’ পাখণ্ডী-বিতর্কে সুর নরম বাগেশ্বর বাবার, কী বললেন?
    এই সময় | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • দুর্গাপুজোর সময়ে যাঁরা আমিষ খান, তাঁরা ‘পাখণ্ডী’ অর্থাৎ ভণ্ড— পশ্চিমবঙ্গে এসে এই মন্তব্য করে বিতর্ক তৈরি করেছিলেন মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর বাবা ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। এই নিয়ে তুমুল চর্চার মাঝে বাগেশ্বর বাবা দাবি করলেন, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘পুজোয় আমিষ খেতে বারণ করার আমি কে? আমার বলিপ্রথা ভালো লাগে না। আর ধার্মিক হিসেবে মণ্ডপে মাছ-মাংস খেতে বারণ করেছি।’

    স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোর একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে ‘বাগেশ্বর বাবা’ বলেন, ‘কিছু মানুষের হয়তো আমার কথা পছন্দ হয়নি। তবে একজন ধর্মগুরু হিসেবে আমি বলিপ্রথার বিরোধিতা করেছিলাম। আমি শুধু এটাই বলতে চেয়েছিলাম— যদি কেউ আমিষ খেয়েও থাকেন, দয়া করে মায়ের মণ্ডপের কাছে তা খাবেন না।’ সুর কিছুটা নরম করলেও, পশুবলির বিরুদ্ধে নিজের অবস্থানে অনড় থেকেই তিনি বলেন, ‘শিব প্রতিটি জীবের মধ্যেই বিরাজমান। শাস্ত্র কী বলে, তা নিয়ে আমাদের আলোচনা করা উচিত। পশুবলির বিরুদ্ধে আমি আওয়াজ তুলেছি এবং আগামী দিনেও তুলব।’

    গত রবিবার হাওড়ার লিলুয়ায় ‘হনুমান কথা’-র আসরে গিয়েছিলেন বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ। সেখানে তিনি বলেন, ‘এখানে নবরাত্রির সময়ে দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলের পিছনে আমিষ খাবার খাওয়া হয়। খারাপ-খারাপ খাবার মণ্ডপের পিছনে তৈরি হয়। এটা আমার অপছন্দ। এই বছর নবরাত্রির সময়ে কলকাতার হিন্দুরা জেগে উঠে এই ধরনের লোকজনকে বহিষ্কার করুন!’ তাঁর সংযোজন, ‘পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের কাছে প্রার্থনা, নবরাত্রিতে দেবীর প্রতিমা থাকুক বা না-থাকুক, কিন্তু প্রতিমার পাশে আমিষ বিক্রি চলবে না।’ পুজোর সময়ে যাঁরা আমিষ খান, তাঁদের ‘পাখণ্ডী’ বলেও চিহ্নিত করেছিলেন বাগেশ্বর বাবা। তা নিয়েই বিতর্ক শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বঙ্গ বিজেপি। বাগেশ্বর বাবার উপদেশের সরাসরি বিরোধিতা না করেও বঙ্গ–বিজেপি নেতারা দলে দলে বোঝাতে শুরু করেন তাঁদের আমিষপ্রীতির কথা। কিন্তু তাতে বিতর্ক থামেনি।

    বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার ভবানীপুর থানার সামনে তাঁর ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের একাংশ। তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বৃহস্পতিবারই বিধানসভায় ধীরেন্দ্রের ছবি পোড়ানোয় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, যিনি রাজ্যের পুলিশমন্ত্রীও। তার পরেই প্রকাশ্যে হেনস্থা, শান্তিভঙ্গের চেষ্টা, ধর্ম-জাতি-ভাষার ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা তৈরির চেষ্টা, ঘৃণা ছড়ানো-সহ একাধিক অভিযোগে আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়, প্রদীপ প্রসাদ-সহ কংগ্রেসের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। রাতে কলকাতার ক্ষেত্রমোহন নস্কর লেনের বাড়ি থেকে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু সাহাকে গ্রেপ্তার করে ভবানীপুর থানা। তা নিয়ে আবার নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)