• ইউক্রেন যুদ্ধে পুতিনকে সাফ বার্তা, হরমুজে ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুতে ইরানকেও সমঝে দিলেন মোদি?
    প্রতিদিন | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ইরান-আমেরিকা, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই ভারতে বসেছে ব্রিকস সম্মেলন (BRICS Summit)। এখানেই রুশ ও ইরানের প্রতিনিধিদের পাশে নিয়ে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। যেখানে ইরান ও রাশিয়াকেও ছেড়ে কথা বলল না ব্রিকসের আয়োজক দেশ। শুক্রবার বক্তব্য রাখতে গিয়ে সমুদ্র নিরাপত্তার পক্ষে সওয়াল করে মোদি বললেন, ‘নৌচলাচলের স্বাধীনতা এবং নাবিকদের নিরাপত্তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ পাশাপাশি পুতিনের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, আলোচনার মাধ্যমে ইউক্রেনের সঙ্গে যাবতীয় সমস্যা মেটিয়ে ফেলুক রাশিয়া।

    গত ৪ বছর ধরে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। এই যুদ্ধের ক্ষতি ভুগতে হয়েছে ভারতকেও। রাশিয়ার সঙ্গে তৈল বাণিজ্যে এসেছে মার্কিন চাপ, অধিক শুল্ক। শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনে আক্রান্ত হয়েছে ভারতের জাহাজ। মৃত্যু হয়েছে ভারতীয় নাবিকের। এই ডামাডোলের মাঝেই ব্রিকসের মঞ্চ থেকে রাশিয়াকে স্পষ্ট ভাষায় বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বলেন, “যুদ্ধ সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও নাবিকদের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। এই ধরনের সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক পথে আলোচনাই একমাত্র পথ। আলোচনার মাধ্যমেই যে কোনও সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।” প্রধানমন্ত্রীর এই বার্‍তা শুধুমাত্র রাশিয়ার জন্য নয়, একইসঙ্গে ইরানের জন্যও। কারণ, এই মুহূর্তে বিশ্ব বাণিজ্যে সবচেয়ে বড় আঘাতটা নেমেছে হরমুজের উপর।

    আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের জেরে হরমুজ বন্ধ করেছে ইরান। যা ভারতের জন্য বড় ধাক্কা। কারণ ভারতের প্রয়োজনের ৬০ শতাংশ তেল ওই পথেই আসে। গত কয়েকমাসে এই পথে দফায় দফায় আক্রান্ত হয়েছে ভারতীয় তেলবাহী জাহাজ। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে কারও নাম না করলেও ব্রিকস মঞ্চ থেকে ঘুরিয়ে ইরানকে বার্তা দিলেন মোদি। সমুদ্রপথে বাণিজ্যে এহেন বাধা গোটা বিশ্বের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে হরমুজ হোক বা কৃষ্ণসাগর সমুদ্র পথের নিরাপত্তা যাতে ব্যহত না হয় সব দেশকে সেদিকে নজর রাখার বার্তা দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

    এর পাশাপাশি এই মঞ্চ থেকেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান সমস্যার মাঝেও ভারত অর্থনৈতিক সেতু নির্মাণ করছে। প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং স্টার্টআপ ও এমএসএমই-দের বাজার, অর্থায়ন, বিনিয়োগ হয়েছে। ব্রিকস দেশগুলোর জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ, বৈশ্বিক জিডিপির ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ২৫ শতাংশেরও বেশি। যৌথভাবে ব্রিকসের জিডিপি এখন দ্বিগুণ গতিতে বেড়ে চলেছে। বিশ্বের জিডিপি যেখানে ২.৫ শতাংশে বেড়েছে সেখানে ব্রিকস দেশগুলোর জিডিপি ৪ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও জানান, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্রিকস দেশগুলোর অবদান ৩৮ শতাংশ, যেখানে জি৭ দেশগুলোর অবদান মাত্র ২৭ শতাংশ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)