‘ওরা কে?’ জি৭ শুনেই ‘নাক সিঁটকালেন’ পুতিন! দিল্লি থেকে পশ্চিমি দুনিয়াকে বেনজির আক্রমণ
প্রতিদিন | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের আগেই তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর শুক্রবাসরীয় সন্ধ্যায় পশ্চিমি দুনিয়ার বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক মেজাজেই দেখা গেল রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে। এদিন দিল্লি থেকেই খোঁচা দিয়ে তাঁকে প্রশ্ন তুলত দেখা গেল জি৭-এর সারবত্তা নিয়েই।
পুতিনের সাফ প্রশ্ন, বিশ্ব অর্থনৈতিক উৎপাদনের ১৮ শতাংশ রয়েছে জি৭-এর হাতে। অন্যদিকে ব্রিকসের হাতে রয়েছে ৪০ শতাংশ। সেপ্রসঙ্গ তুলে তিনি বলছেন, ”আমি জানি না ওরা (পশ্চিমি দুনিয়া) কেন এমন বলে।” এরপরই তাঁকে বলতে শোনা যায়, ”ব্রিকসের পশ্চিমি প্রতিযোগীরা চেষ্টা করছে হারানো ক্ষমতা ফিরে পেতে। প্রশাসনিক স্তরে এই লড়াইটি এক অনাকাঙ্ক্ষিত মোড় নিচ্ছে।” পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমি দেশগুলি রাশিয়ার উপরে অন্যায্যা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। উল্লেখ্য, রাশিয়া একসময় জি৮ গোষ্ঠীর সদস্য ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের জেরে বহিষ্কৃত হয় মস্কো।
এদিন পুতিন বলেছেন, ”রাশিয়ার ওপর ৩০ হাজারেরও বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যা বিশ্বের অন্য সব দেশের ওপর আরোপিত মোট নিষেধাজ্ঞার সংখ্যার দ্বিগুণ। এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও রাশিয়া সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। আমরা আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব সুদৃঢ় করেছি এবং নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল অংশীদারদের সাথে সম্পর্ক জোরদার করছি। গত তিন বছরে রাশিয়ার অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার বিশ্ব গড়ের চেয়েও বেশি ছিল।”
বলে রাখা ভালো, এদিন বিকেলে মিলিত হন পুতিন ও মোদি। সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল গত সপ্তাহে বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলনে। সেই বৈঠকে রুশ নেতার প্রতি ‘অন্তহীন (ইউক্রেন) যুদ্ধ থেকে সরে আসার’ আহ্বান জানান মোদি। পাঁচ বছর আগে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের প্রভাব পড়ছে ইউরোপ-সহ গোটা বিশ্বে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বৈশ্বিক আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে।