উপলক্ষ ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। তিন দিনের সফরে ভারতের মাটিতে পা রেখেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিশ্বের মঞ্চে পুতিনের কূটনৈতিক বার্তার পাশাপাশি নজর কেড়েছে তাঁর অভেদ্য নিরাপত্তার বলয়। বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ নিরাপত্তাপ্রাপ্ত এই রাষ্ট্রপ্রধান রাশিয়া থেকে ভারতে উড়ে আসতে ব্যবহার করেছেন বিশেষ নকশার বিমান ‘ডুমস-ডে’ এবং সাঁজোয়া গাড়ি ‘আউরুস সেনাত’। আকাশ থেকে স্থলপথে, পুতিনের বাহনের অন্দরমহল যেন দুর্ভেদ্য ‘দুর্গ’।
মূলত বিমানের বিশেষ নিরাপত্তা ও যোগাযোগ সক্ষমতার কারণে ‘ডুমসডে প্লেন’ নামকরণ। শুধুমাত্র রাষ্ট্রপ্রধানকে বহন করার জন্য নয়, বরং জরুরি পরিস্থিতিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মোবাইল কমান্ড সেন্টার হিসেবেও কাজ করতে পারে। চার ইঞ্জিনের এই দূরপাল্লার বিমান প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে সক্ষম। এতে ব্যবহৃত হয়েছে এভিডভিগতাল পিএস-৯০এ টার্বোফ্যান ইঞ্জিন। বিমানটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৫ দশমিক ৩৫ মিটার এবং ডানার বিস্তার ৬০ দশমিক ১২ মিটার। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বিমান চলাচলের দায়িত্বে থাকা বিশেষ ফ্লাইট স্কোয়াড্রন এটি পরিচালনা করে।
কী আছে ‘ডুমস-ডে’ প্লেনে?
আইএল-৯৬৩০০-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলির একটি হল সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই বিমানটি এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ প্রযুক্তি রয়েছে, যার মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনও স্থান থেকে সামরিক, গোয়েন্দা ও সরকারি নেটওয়ার্কের সঙ্গে নিরাপদে যোগাযোগ করা সম্ভব। এ ছাড়া এতে রয়েছে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, সুরক্ষিত রেডিও ও ডাটা চ্যানেল এবং রাডার জ্যামিং প্রযুক্তি। এসব ব্যবস্থা জরুরি পরিস্থিতিতেও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় ও সামরিক কাঠামোর যোগাযোগ সচল রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে। বিমানের ভিতরে প্রেসিডেন্টের আলাদা স্যুট, শয়ন কক্ষ, বিলাসবহুল বাথরুম, ব্যক্তিগত রান্নাঘর ও খাবারের জায়গা। রয়েছে বড় আকারের একটি সম্মেলন কক্ষ, যেখানে বোর্ডরুমের মতো বসার ব্যবস্থাও রয়েছে।
‘আউরুস সেনাত’-এর অন্দরে কী আছে?
নিরাপত্তায় মোড়া বিমান থেকে নেমে দিল্লির রাস্তাতেও যেন ‘চলমান দুর্গ’ পুতিনের কনভয়। গাড়িটিতে রয়েছে ৪.৪ লিটারের টুইন-টার্বোচার্জড ভি-এইট হাইব্রিড ইঞ্জিন, যা প্রায় ৫৯৮ হর্সপাওয়ার এবং ৮৮০ এনএম টর্ক তৈরি করতে সক্ষম। মাত্র ৯ সেকেন্ডে ১০০ কিমি গতি তুলতে সক্ষম ৯-স্পিড অটোমেটিক গিয়ারবক্সের এই বিশাল গাড়ি। এই গাড়িটি সম্পূর্ণ বুলেটপ্রুফ এবং বিস্ফোরণরোধী। এতে রয়েছে অ্যাডভান্সড ব্রেকিং সিস্টেম, লেন ডিপার্চার ওয়ার্নিং, ইলেকট্রনিক ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে এয়ারটাইট সুরক্ষাকবচ। ২০২৫-এ চিনে আয়োজিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন সামিটের সময় ‘আউরুস সেনাটে’ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সফরসঙ্গী হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবছর ভারতের মাটিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনেও দেখা গেল পুতিনের বিশেষ রুশ ‘বাহন’।