মণ্ডপে ৫০ ফুটের গণেশ, বদলের বাংলায় শুভেন্দুকে দেওয়া কথা রাখল এই পুজো কমিটি
প্রতিদিন | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগের বাংলায় তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সামনে নেওয়া প্রতিশ্রুতির হেরফের হল না। তৃণমূল পর্যুদস্ত হওয়ার পরই গণেশের উচ্চতায় আসল বদল। ১২ তম বর্ষে ৫০ ফুটের গণেশ মূর্তি তৈরি করে চমক উত্তর ২৪ পরগনার ঘোলার সি ব্লক সাহাপাড়ার শ্রীপল্লি অটোস্ট্যান্ডের গণেশ পুজো কমিটির।
গত ২০১৫ সালে এই পুজো শুরু হয়। কলকাতা উত্তর শহরতলি জেলার মাইনোরিটি মোর্চার সভাপতি সুজিত বড়ুয়া পুজো শুরু করেন। ২০২২, ২০২৩ এবং ২০২৫ সালেও জাঁকজমকের কোনও খামতি ছিল না। তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সেই সময় পুজো উদ্বোধন করেন। তবে বদলের বাংলায় পুজো বহরে বাড়ছে। এবার ৫০ ফুটের বেশি উচ্চতার বিশাল গণেশ মূর্তি আনা হয়েছে মণ্ডপে। সুজিত বড়ুয়া বলেন, “নানা বাধা আসা সত্ত্বেও ১১ বছর ধরে এই পুজো করছি। তৃণমূলের আমলে কেউ মণ্ডপে আসতে পারতেন না। বারবার শুভেন্দু অধিকারী আসেন। কথা দিয়েছিলাম সরকার বদলালে বড় করে গণেশ পুজো করব।” এবার পুজোয় মুখ্যমন্ত্রী-সহ রাজ্যের মন্ত্রী, বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও খবর।
এবারের পুজোর থিম ‘বিঘ্নহারিণী’। মণ্ডপে মোট ৩০টি গণেশ মূর্তি থাকবে। মূল মণ্ডপে থাকবে ১২ ফুটের আমেরিকান ডায়মন্ডের গণেশ মূর্তি। সবুজ রক্ষার বার্তা মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিঘ্নহর্তার পায়ের কাছে পাহাড়ি ঝর্ণা। সেখান থেকে জল গড়িয়ে পড়বে। যেন মনে হবে ঝর্ণার উপরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন সিদ্ধিদাতা। শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পোদ্দারের তত্ত্বাবধানে ৩০ জন এই কাজ করেছেন। সময় লেগেছে প্রায় দেড়মাস। ইন্দ্রজিৎবাবুর দাবি, প্রকৃতি কারখানায় পরিণত হয়েছে বলে জল ও গাছ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। সে কারণেই থিমের মাধ্যমে সবুজ রক্ষার বার্তা দেওয়া হয়েছে। আপাতত এই গণেশ পুজো নিয়ে মাতোয়ারা গোটা এলাকা।