মেট্রোয় ঝাঁপ দিতে যান ছাত্রী! ফোনেই শুরু কাউন্সেলিং, জীবন বাঁচালেন অধ্যাপক
প্রতিদিন | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেট্রো লাহনে ঝাঁপ দেওয়ার আগে আর্টসের পড়ুয়া ফোন করেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সেলিং অভিরূপ দাস সেলে। ফোন ধরতেই বলে ওঠেন, “একটু মানসিক জোর দিন, ট্রেন ঢুকছে। ঝাঁপ দিচ্ছি মেট্রো লাইনে।” ঘাবড়ে যাননি অধ্যাপক-কাউন্সিলর। ‘সেন্টার ফর কাউন্সেলিং সার্ভিস অ্যান্ড স্টাডিজ ইন সেলফ ডেভলপমেন্ট’-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যপক সমরকুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, ঠান্ডা মাথায় ফোনেই শুরু করি কাউন্সেলিং। মাথায় একটাই জিনিস কাজ করছিল। আমি কিছুতেই খারাপ কিছু হতে দেব না। আত্মহত্যা করতে বদ্ধপরিকর এমন কাউকে স্রেফ বুঝিয়ে সুঝিয়ে নিরস্ত করা চাট্টিখানি কথা নয়।
নিরসনের প্রধান শর্ত হল সমস্যা শোনা। ২০২৬ বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের থিমও তাই। ‘স্টার্ট দ্য কনভারসেশন।’ সম্প্রতি সদ্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখা কলা বিভাগের পড়ুয়া তিলোত্তমা চট্টোপাধ্যায় (নাম পরিবর্তিত) এর জীবন বাঁচাতে সেই রাস্তাই নিলেন অধ্যাপক সমরকুমার মণ্ডল। সূত্রের খবর, ওই ছাত্রী অত্যন্ত মেধাবী। স্কুলে সর্বদা থাকতেন প্রথম সারিতে। উজ্জ্বল মার্কশিটে ভর করেই সুযোগ পেয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। সমস্যা শুরু হয় এরপর থেকেই। কিছুতেই মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। সমরবাবুর কথায়, “আর্টসের ওই পড়ুয়া অত্যন্ত প্রতিভাবান। তার মনে হতে শুরু করে আমি বোধহয় এই পরিবেশের জন্য উপযুক্ত নই। ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছি।” কেন এমন? মা-বাবার সঙ্গে তাঁর খুব একটা গল্পগুজব হত না। বয়ফ্রেন্ড থাকলেও সে কলকাতার বাইরে। এ দিকে ওই ছাত্রী জীবনে কোনওদিন ‘না’ শোনেননি। কখনও কোনও কিছুতে অকৃতকার্য হননি। ব্যর্থতা-পরাজয় সম্বন্ধে তাঁর ধারণা ছিল না কোনওদিন। বিশ্ববিদ্যালয় পরিসরে তাঁর মনে আশঙ্কা তৈরি হয়, “যদি পিছিয়ে পড়ি।”
সেন্টার ফর কাউন্সেলিং সার্ভিস অ্যান্ড স্টাডিজ ইন সেলফ ডেভলপমেন্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক সমরকুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, সেই থেকেই অবসাদ বাসা বেঁধেছিল। আচমকা যখন আমায় ফোন করে বলে ঝাঁপ দিতে যাচ্ছি সঙ্গে সঙ্গে জিজ্ঞেস করি, “কে আছে? ও আমায় বলে, কেউ নেই। তবে আমি কথা বন্ধ করিনি।” কথা বলতে বলতেই ওই ছাত্রীকে মেট্রো স্টেশনের বাইরে বের করে আনি অটোতে উঠতে বলি। বাড়ি পাঠাই। সঙ্গে সঙ্গে ফোন করি বন্ধুদেরও। তাদের বলি, চোখে চোখে রেখো। বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে কথা বলে তাকেও দ্রুত কলকাতায় আসতে বলেন সমরবাবু। আপাতত ওই ছাত্রী একদম সুস্থ।