রাজ্যজুড়ে সক্রিয় ভুয়ো চিকিৎসক চক্র! ২ চিকিৎসককে কাঠগড়ায় তুলে স্বাস্থ্যদপ্তরে চিঠি
প্রতিদিন | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজ্যে সক্রিয় ভুয়ো চিকিৎসক চক্র! ভিন রাজ্যের ভুয়ো এমবিবিএস ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসা করছেন ‘ভুয়ো’ চিকিৎসকরা। সেই ভুয়ো শংসাপত্র দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে রেজিস্ট্রেশন নেওয়া হয়েছে। এমন ২ চিকিৎসকের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। এই অভিযোগ তুলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে চিঠি লিখল প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিং হোম অ্যাসোসিয়েশন।
শুধু চিকিৎসা নয়, সরকারি প্রকল্প যোজনা ‘স্বাস্থ্যসাথী’র (তৃণমূল আমলের প্রকল্প) অপব্যবহার হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই ভুয়ো চিকিৎসকের চিকিৎসার জন্য রোগীর মৃত্যুও হয়েছে! তদন্ত করে বিষয়টি দেখার অনুরোধ করেছে সংগঠন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবিলম্বে রেজিস্ট্রেশন বাতিল ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করার দাবি জানিয়েছে এই সংগঠন।
স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে লেখা চিঠিতে দুই চিকিৎসকের নামে অভিযোগ জানানো হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের সেহরাবাজার নার্সিংহোমের চিকিৎসক শেখ শাহিদুল হক (রেজিস্ট্রেশন নং-WBMC -৮০১৯৮)। আরেক চিকিৎসক জুলফিকর মণ্ডল (রেজিস্ট্রেশন নং: WBMC ৮৯০২১) এই দুই চিকিৎসক বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে এমবিবিএস পাসের শংসাপত্র দেখিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রেজিস্ট্রেশন পেয়েছেন। কিন্তু বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলের সেই শংসাপত্র ভুয়ো বলে জানিয়েছে বলে দাবি করেছে এই সংগঠন। তার স্বপক্ষে তারা বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলের রিপোর্টও চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। চিঠির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশন, এনওসি এবং পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের পোর্টালের নথিপত্রও দিয়েছে।
এই সংগঠনের আরও অভিযোগ, অভিযুক্তদের অধীনে চিকিৎসারত বেশ কয়েকজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলো ভুয়ো যোগ্যতা ও রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে ‘স্বাস্থ্যসাথী’র মতো বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পের আওতায় অর্থ তছরূপ করেছে। চিঠিতে সংগঠনের তরফে লেখা হয়েছে, ‘এই কাণ্ডে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশেষজ্ঞ-পর্যায়ের তদন্ত প্রয়োজন। যদি এমন কোনও পেশাগত অসদাচরণ প্রমাণিত হয়, তবে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।’
চিকিৎসক ও প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে, পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিং হোম অ্যাসোসিয়েশন। ১. অভিযুক্তদের মেডিক্যাল ডিগ্রি ও রেজিস্ট্রেশন নিয়ে নিরপেক্ষ ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্ত দরকার। ২. চিকিৎসাজনিত কোনও গাফিলতি বা রোগীর মৃত্যু ঘটে থাকলে তার স্বাধীন তদন্ত। ৩. স্বাস্থ্যসাথী বা সরকারি প্রকল্প থেকে গৃহীত অর্থের হিসাব পরীক্ষা করে তা পুনরুদ্ধার করা। ৪. অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবিলম্বে রেজিস্ট্রেশন বাতিল। ফৌজদারি মামলা দায়ের করা। ৫. রাজ্যব্যাপী এমন ভুয়ো ডিগ্রি যাচাইয়ের ব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষ বা চিকিৎসকদের তথ্য জানানোর জন্য একটি হেল্পলাইন চালু করার দাবি জানিয়েছে এই সংগঠন।