• প্রতীক কার? বৈঠকের আগেও দ্বন্দ্বে ২ তৃণমূল
    এই সময় | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: জোড়াফুল প্রতীক কার? কালীঘাট–তৃণমূলের, নাকি বিদ্রোহী তৃণমূলের? সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি করতে আজ, শনিবার ব্যাক টু ব্যাক দুই শিবিরের তৃণমূল প্রতিনিধিদের দিল্লিতে ডেকেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দুই শিবিরই প্রস্তুত নথিপত্র নিয়ে। দু’পক্ষই আশাবাদী, তৃণমূলের ‘প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব’ তারা পাবে।

    পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে আগামী ৬ অক্টোবর। পুজোর পরেই কলকাতা–হাওড়া কর্পোরেশনের ভোট হওয়ার কথা। ওই ভোটে কোন পক্ষ জোড়াফুল প্রতীকে লড়বে, এই প্রশ্নটাই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। সূত্রের খবর, আজ তৃণমূলের দুই শিবিরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকের পরে তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম, কালীঘাট শিবিরকে জোড়াফুল প্রতীক দেওয়া হতে পারে। দ্বিতীয়, বিদ্রোহী তৃণমূলই জোড়াফুল প্রতীক পেল। এবং তৃতীয়, আপাতত কাউকেই দেওয়া হলো না জোড়াফুল প্রতীক। সেক্ষেত্রে দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তৃণমূলের দুই শিবিরকে ফ্রি–প্রতীকে লড়তে হতে পারে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা কিন্তু নজিরবিহীন নয়। এর আগে মহারাষ্ট্রে শিবসেনার দখলকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সময়েও একই পদক্ষেপ করেছিল কমিশন৷ বিতর্ক শুরুর কিছুদিন পরেই একটি নির্বাচনে উদ্ধব ঠাকরে এবং একনাথ শিন্ডে— দুই শিবিরকেই ‘শিবসেনা’ দলের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ধনুক ও তিরের প্রতীক ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছিল। একনাথ শিবির তাদের দলের নাম দিয়েছিল ‘বালাসাহেবঞ্চি শিবসেনা’। তাদের প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয়েছিল ‘দুটি তরোয়াল এবং একটি ঢাল’। অন্যদিকে উদ্ধব–পন্থীদের দলকে প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ করা হয়েছিল ‘জ্বলন্ত মশাল’। ২০২২–এর জুনে শিবসেনার দুই শিবিরের মধ্যে প্রবল বিবাদ শুরু হয়৷ এই জটিলতার নিষ্পত্তিতে ২০২৩–এর ১৭ ফেব্রুয়ারি আদি ‘শিবসেনা’ এবং দলীয় প্রতীক হিসেবে ‘ধনুক ও তির’ ব্যবহারের অধিকার একনাথ শিন্ডে শিবিরের হাতে তুলে দেয় কমিশন৷

    এই আবহে রাজনৈতিক মহলের নজর আজ কমিশনের জোড়া বৈঠকের দিকে। যেহেতু ব্রিকস সম্মেলনের জন্য দিল্লিতে সব সরকারি অফিস বন্ধ রেখে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, তাই তৃণমূলের দুই শিবিরের প্রতিনিধিদের ডাকা হয়েছে দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে দ্বারকায় সেক্টর ১৩-তে অবস্থিত ‘ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডেমোক্র্যাসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট’ ভবনে৷ সূত্রের দাবি, সকাল ১১টায় কমিশনের সামনে উপস্থিত হবেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রতিনিধিরা৷ বেলা ১২টায় হাজিরা দেবেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের পাঁচ প্রতিনিধি৷ তবে আজই প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়৷

    শুক্রবার দিল্লি যাওয়ার আগে বিদ্রোহী তৃণমূলের নেতা ঋতব্রত বলেন, ‘আমরা আগেও নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের কাছে গিয়েছিলাম। আমাদের চেয়ারপার্সন অরূপ রায়ের নেতৃত্বে যা তথ্যপ্রমাণ দেওয়ার সবই দিয়েছি। যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কমিশন নেবে।’ তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে ভোটে লড়লে তাঁরা প্রার্থী দেবেন না বলে জানিয়েছেন ঋতব্রত। কালীঘাট–তৃণমূলের তরফে কুণাল ঘোষের বক্তব্য, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছাড়া তৃণমূল কংগ্রেস ভাবা যায়? দলটা তো ওঁর হাতেই তৈরি। যাঁরা আজ বিজেপির হাতে তামাক খেয়ে জোড়াফুল প্রতীক চাইছেন, তাঁরা একজনও জিততে পারতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাশে না থাকলে?’ কালীঘাট শিবিরের তরফে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের খোঁচা, ‘ঋতব্রতর যদি এত আস্থা থাকে নিজের উপরে, তা হলে ফ্রি–সিম্বলে ভোটে লড়ুন।’

  • Link to this news (এই সময়)