• হিমালয়ের কোলে দাঁড়িয়ে পূজারিহীন বুড়া মদমহেশ্বর
    এই সময় | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • তাপস কুমার দত্ত

    এক দিকে পৌরাণিক গুরুত্ব, অন্য দিকে হিমালয়ের কোলে চোখধাঁধানো সৌন্দর্য। উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ জেলার গোন্দারে রয়েছে পঞ্চ কেদারের অন্যতম মদমহেশ্বর বা মধ্যমহেশ্বর। রাশি গ্রাম থেকে মদমহেশ্বরের দূরত্ব প্রায় ১৬ কিলোমিটার। পায়ে হেঁটে বা ঘোড়ার পিঠে চড়ে পৌঁছে যেতে হয় সেখানে। গাড়োয়াল হিমালয়ের কোলে প্রায় ৩,৫০০ মিটার (১১,৪৭১ ফুট) উচ্চতায় এই মন্দিরটি অবস্থিত। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাভারতের যুদ্ধের পর পাণ্ডবরা শিবের আশীর্বাদ পেতে এখানে এসেছিলেন। সেই টান তো বটেই সঙ্গে অনন্য সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করার জন্য অনেকেই প্রত্যেক বছর এখানে ভিড় করেন।

    মদমহেশ্বর থেকে বুগিয়াল (প্রাকৃতিক তৃণভূমি) ধরে প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার এগিয়ে গেলে রয়েছে বুড়া মদমহেশ্বর। এই ট্রেক পথের সৌন্দর্য ভ্রমণ পিপাসুদের মুগ্ধ করার মতো। মদমহেশ্বরে পৌঁছনোর পরের দিন ভোরবেলা আমরা বেরিয়ে পড়েছিলাম বুড়া মদমহেশ্বরের পথে। জানিয়ে রাখা ভালো, এখানে হাঁটার কোনও নির্দিষ্ট পথ নেই। যে পথে ভেড়া, গরুরা চড়ে বেড়ায় সেই পথ ধরেই হেঁটে চলতে হয়।

    বুগিয়াল সবুজ ঘাসে ভরা এবং তাতে ফুটে থাকে হরেক রকমের ছোটো–ছোটো নানা রঙের ফুল। পথ চলতে–চলতে একটা সময়ে দেখতে পেলাম মোনাল পাখি। আর বেশ চড়াই পথ অতিক্রম করে হিমালয় পর্বতমালার কোলে বুড়া মদমহেশ্বরকে দেখে যেন সমস্ত কষ্ট নিমেষে লাঘব হয়ে যায়। বিস্তীর্ণ বুগিয়াল ও ১৮০ ডিগ্রি জুড়ে হিমালয়ের বিভিন্ন তুষারশৃঙ্গগুলি মন জড়িয়ে দেয়। যেন হাত ছোঁয়ানোর দূরত্বে দাঁড়িয়ে মান্দানি ও চৌখাম্বা।

    আর বুড়া মদমহেশ্বর মন্দির। যেখানে কোনও পূজারি নেই। ভক্তগণ নিজের ইচ্ছেমতো ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা সেরে নেন। এখানে অনেকটা সময় প্রকৃতির মধ্যে কাটিয়ে মদমহেশ্বরে ফিরলাম। জানিয়ে রাখা ভালো, হরিদ্বার নেমে সেখান থেকে কুণ্ড হয়ে উখিমঠ ও তার পর রাশি গ্রামে পৌঁছতে হয়।

    তার পরে ট্রেক পথে একে-একে পড়বে আটতোলিধার, গোন্ডার, বানতোলি, নানু ও কুনচটি। পরপর এই জায়গাগুলোর দূরত্ব মোটামুটি দুই থেকে চার কিলোমিটারের দূরত্ব। ট্রেকপথের পুরোটা একদিনে না করাই ভালো। শরীর বুঝে দিন ভাগ করে নিন। প্রায় প্রত্যেক গ্রামেই থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

    খেয়াল রাখতে হবে

  • Link to this news (এই সময়)