মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পরেই বাল্যবিবাহ রুখতে ‘অ্যাকশন মোডে’ পুলিশ।
শুক্রবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার বেনিয়াগ্রামের বেলদারপাড়ায় বিয়ের আসর থেকে ১৭ বছরের এক নাবালিকাকে উদ্ধার করল পুলিশ ও প্রশাসন। ওই নাবালিকার বিয়ের আয়োজন চলছিল বহরমপুরের এক রাজমিস্ত্রি যুবকের সঙ্গে। ঘটনাস্থল থেকে বর, তাঁর বাবা, নাবালিকা এবং তাঁর মাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন প্রশাসনিক আধিকারিক ও পুলিশকর্মীরা। সেখানে নাবালিকার পরিবারের তরফে দাবি করা হয়, মেয়েটির বয়স ১৮ বছর হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বয়সের প্রমাণপত্র পরীক্ষা করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আসে অন্য তথ্য। নাবালিকার আধার কার্ড পরীক্ষা করে দেখা যায়, তাঁর বয়স ১৭ বছর। এর পরেই বিয়ে বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।
পুলিশ সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া নাবালিকাকে আইনি প্রক্রিয়া মেনে হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে পাত্র, তাঁর বাবা এবং নাবালিকার মায়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সেনারুল শেখ বলেন, ‘মেয়ের মা দাবি করছিলেন, মেয়ের বয়স ১৮ হয়েছে। কিন্তু পুলিশের তদন্তে আধার কার্ড দেখে জানা যায়, বয়স এখনও ১৮ হয়নি। প্রশাসন সঠিক পদক্ষেপ করেছে।’
সেই সঙ্গেই বাসিন্দাদের এই নিয়ে সচেতন করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রীরামপুর পঞ্চায়েত সদস্যের প্রতিনিধি সুনীল মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘গ্রামে পুলিশ এসে বাল্যবিবাহ রুখে দিয়েছে। পাত্রপাত্রী-সহ চার জনকে পুলিশ থানায় নিয়ে গিয়েছে। আঠারোর আগে বিয়ে নয়—এই বার্তা নিয়ে আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে বোঝাব।’ তাঁর দাবি, আইন থাকা সত্ত্বেও সচেতনতার অভাবে গ্রামের অনেক পরিবার অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেন। এর ফলে মেয়েদের শারীরিক ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। বাল্যবিবাহ পুরোপুরি বন্ধ করতে পঞ্চায়েত এলাকায় বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর জঙ্গিপুর পুলিশ জেলা-সহ বিভিন্ন এলাকায় বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।