এই সময়: নতুন কাজে বহাল ড্রাইভারের নাম জানতে চেয়েছিলেন মালিক। ক’সেকেন্ড ভেবে ড্রাইভার বলেছিল, ‘আজ্ঞে হৃদয়হরণ’। ৬৩ বছর আগে, ১৯৬৩–তে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দেয়া–নেয়া’ ছবির সেই নায়কের এ বার জন্মশতবার্ষিকী। ফিল্মের নায়িকা ড্রাইভারের নাম ‘হৃদয়হরণ’ শুনে যতই বিরক্ত হোন না কেন, এই ২০২৬–এও এমন বঙ্গমহিলা পাওয়া কঠিন, যাঁর হৃদয় ওই নায়ক হরণ করেননি! বাংলার একমাত্র মহানায়ক উত্তমকুমারকেই এ বার পুজোর থিম হিসেবে বেছে নিয়েছে সমাজসেবী সঙ্ঘ। ৮১তম বছরে তাদের পুজোর ক্যাচলাইন ‘মহাপুজোয় মহানায়ক’, সবচেয়ে বড় আকর্ষণ বলতে মণ্ডপে মহানায়কের উপস্থিতি!
পুজো কমিটির তরফে অরিজিৎ মৈত্র ‘এই সময়’–কে বলেন, ‘দুর্গাপুজো আর উত্তমকুমার — এ নিয়ে বাঙালির আবেগের অন্ত নেই। এ বছর আবার ওঁর জন্মশতবর্ষ। আমরা তাই সুযোগ ছাড়তে চাইনি। মহায়ানক–অভিনীত ২০৮টি ছবির প্রতিটির পোস্টারের কোলাজ দিয়ে মণ্ডপ তৈরি হবে। বিশেষ আবহসঙ্গীতও তৈরি হয়েছে। তা ছাড়া, প্যান্ডেলে এলে ওঁর উপস্থিতি অনুভব করা যাবে! কী ভাবে? সেটা আপাতত রহস্যই থাক।’
রাজ্যে সরকার বদলের পরে যে পুজোগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তাদের অন্যতম নিউ আলিপুরের সুরুচি সঙ্ঘ। কিন্তু ৭৩ বছরের পুরোনো পুজোটি যে স্বমহিমায় হতে চলেছে, তা জানিয়ে দিয়েছেন নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটির সদস্যরা। কমিটির তরফে কিংশুক মৈত্র ‘এই সময়’–কে বলেন, ‘এ বছর আমাদের থিম ‘উৎস’। আমরা চেষ্টা করব অন্যান্য বারের মতোই মণ্ডপের বৈচিত্রে দর্শকদের অবাক করে দিতে।’ একই ভাবে নজর থাকছে রাজডাঙা নব উদয় সঙ্ঘের পুজোয়। এ বারের থিমের নাম (শোধন) সামনে আসার পরে তো জল্পনা তুঙ্গে উঠেছিল। তবে কমিটির তরফে শঙ্করকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, থিমের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই। মণ্ডপসজ্জা নিয়ে অবশ্য রহস্য বজায় রেখেছেন তিনি।
উত্তর কলকাতার টালা বারোয়ারির পুজো এ বার ১০৬ বছরে পা দিতে চলেছে। উদ্যোক্তাদের অন্যতম অভিষেক ভট্টাচার্য বলেন, ‘এ বারের ক্যাচলাইন ‘বায়োরারির দুর্গাবাড়ি’। মণ্ডপে দুর্গাপুজোর ইতিহাস এবং আধ্যাত্মিকতার প্রবাহ দেখাতে চলেছি।’
রাজস্থানে না গিয়েও যাঁরা সেখানকার ‘গাঙ্গোর’ উৎসবের আবহ অনুভব করতে চান, তাঁরা এ বার যেতে পারেন দক্ষিণ কলকাতার শিবমন্দির–এর মণ্ডপে। ৯০ বছরের পুরোনো এই বারোয়ারি প্রতি বছরই থিমের অভিনবত্বে দর্শকদের বিস্মিত করে। সেই ধারাই বজায় থাকবে বলে দাবি অন্যতম উদ্যোক্তা পার্থ ঘোষের।
দমদম পার্ক ভারতচক্র আবার দর্শকদের সামনে তুলে ধরছেন বাংলার প্রাচীন রথ ও তার বিবর্তনের ইতিহাস। থিমের নাম ‘অন্তর্যামী’। এ বার পুজোর ২৬ বছরে পদার্পণ। কমিটির তরফে প্রতীক চৌধুরীর বক্তব্য, ‘হুগলির গুপ্তিপাড়া এবং মাহেশের মতো বিখ্যাতগুলির পাশাপাশি অন্য কিছু রথও দেখা যাবে মণ্ডপে। এদের ইতিহাসও কম আকর্ষক নয়।’
জগৎ মুখার্জি পার্কের পুজো কখনও বনগাঁ লোকালের ভিড়ে ঠাসা কামরা, কখনও বেনারসের দশাশ্বমেধ ঘাটকে মণ্ডপে তুলে এনে দর্শকদের তাক লাগিয়েছে। এ বার এই পুজো ৯০ বছরে পড়ল। কমিটি জানাচ্ছে, তাদের থিম ‘পাণ্ডুলিপি’।