• পিএ-র বাড়িতে ED, কংগ্রেসের সাংগঠনিক পদ ছাড়লেন উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াত
    এই সময় | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াত। তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দন সিংহ জিনার বাড়িতে ইডি-র তল্লাশি অভিযানের পরেই শুক্রবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। ২০১৬ সালে উত্তরাখণ্ড সাবঅর্ডিনেট সার্ভিস সিলেকশন কমিশন (UKSSSC)-এর পরিচালিত একটি নিয়োগ পরীক্ষায় বেনিয়মের অভিযোগ ওঠে। টাকা নয়ছয়ের অভিযোগের তদন্তে জিনার বাড়িতে তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেখান থেকে সোনা, গয়না, দামি ঘড়ি-সহ বেশ কিছু মূল্যবান জিনিস উদ্ধার হয়।

    সংবাদসংস্থা ANI-কে রাওয়াত জানান, তিনি চান না তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে ঘিরে কোনও বিতর্কের কারণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের লড়াই দুর্বল হয়ে যায়। তাই তিনি উত্তরাখণ্ড প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য এবং কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য— এই দু’টি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    ED জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দেরাদুনের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। তার মধ্যে রয়েছে UKSSSC-র প্রাক্তন আধিকারিকদের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্থান, OMR শিট ছাপানোর কাজে যুক্ত একটি বেসরকারি কম্পিউটার সংস্থার মালিকের বাড়ি এবং অভিযুক্ত মধ্যস্থতাকারীদের ঠিকানা। তালিকায় ছিল জিনার ঠিকানাও। তল্লাশির সময় জিনার বাড়ি থেকে ৩২ লক্ষ টাকা নগদ, সোনা এবং দামি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে বলে ED জানিয়েছে।

    ২০১৬ সালে UKSSSC পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েত বিকাশ আধিকারিক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। উত্তরাখণ্ড পুলিশ ও ভিজিল্যান্স ব্যুরো চারটি FIR দায়ের করে। তার ভিত্তিতে ED টাকা পাচারের মামলা শুরু করে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, পরীক্ষার OMR উত্তরপত্র নিরাপদ হেফাজত থেকে সরিয়ে কমিশনের তৎকালীন সচিবের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

    এর পরেই OMR জালিয়াতি করা হয়। পরে সেই সব OMR আবার সিল করে দেওয়া হয়। ED জানিয়েছে, জিনার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩২ লক্ষ টাকা, ২০০.৫ গ্রাম সোনা, (১৩টি সোনার কয়েন ও ৭টি সোনার চেন), ১২টি দামি হাতঘড়ি। এ ছাড়া জিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ৫২.১৬ লক্ষ টাকাও ED ফ্রিজ় করেছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য তাঁর মোবাইল ফোনও বাজেয়াপ্ত করেছে। জিনা বর্তমানে হরিশ রাওয়াতের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত রাওয়াত মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন জিনা তাঁর অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (OSD) হিসেবেও কাজ করেছিলেন।

    এক্স হ্যান্ডলে হরিশ রাওয়াত লিখেছেন, তাঁর PA-র বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বিশ্বাস করা কঠিন। তিনি এও জানান, জিনা তাঁর OSD হিসেবে কাজ করেছেন এবং সরকার বা দলের দায়িত্বে থাকাকালীন বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। জিনাকে অত্যন্ত ভদ্র, নম্র ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবেও দাবি করেছেন রাওয়াত। যদি প্রমাণ হয় যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জিনা OMR শিটে কারচুপি করেছেন, তা হলে এমন কাজের জন্য তিনি লজ্জিত হবেন।

    তাঁর বক্তব্য, ‘যদি তিনি গ্রাম সেবক নিয়োগ পরীক্ষায় OMR শিটে কারচুপি করে থাকেন এবং তার প্রমাণ থাকে, তা হলে এই কাজের জন্য আমি লজ্জিত। তবে আমি এই অভিযোগ মোটেও বিশ্বাস করি না।’ দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে রাওয়াত জানান, তিনি চান না উত্তরাখণ্ডে ভোটের আগে তাঁকে ঘিরে কোনও রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করা হোক।

    রাওয়াত বলেন, ‘কংগ্রেস ও দলের কর্মীরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। রাহুল গান্ধী দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব। এই পরিস্থিতিতে আমার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও ঘটনা যদি দলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইকে দুর্বল করে দেয়, তা হলে আমি কখনও তা চাইব না। তাই আমি একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বর্তমানে আমি কোনও সরকারি পদে নেই যেখান থেকে পদত্যাগ করতে পারি। তবে কংগ্রেসের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

  • Link to this news (এই সময়)