এই সময়, তমলুক: মোবাইলের যুগে বই পড়ার অভ্যাস কমছে, তরুণ প্রজন্ম পাঠবিমুখ হচ্ছে- এমন আশঙ্কার সঙ্গে একমত নন কবি জয় গোস্বামী। তাঁর মতে, প্রযুক্তির নেতিবাচক দিকের দিকে না-তাকিয়ে তার ইতিবাচক ব্যবহার কী ভাবে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, সে দিকেই নজর দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর কথায়, 'যে পড়তে ভালোবাসে, সে কিন্তু পড়বেই। মোবাইলেও সে পড়তে পারে।'
শুক্রবার তমলুকে এনএইচকে ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের ২৪তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত 'তাম্রলিপ্ত সম্মান ২০২৬'-এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জয় গোস্বামী। এ দিন অনুষ্ঠানে 'তাম্রলিপ্ত সম্মান ২০২৬'-এর জীবনকৃতি সম্মান দেওয়া হয় আল-আমিন মিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক এম. নূরুল ইসলামকে। শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে দীর্ঘ চার দশকের অবদানের স্বীকৃতি হিসাবেই এই সম্মান। জয় বলেন, 'শিক্ষা জীবনের আসল কবিতা। নূরুল ইসলাম আল-আমিন মিশনের মাধ্যমে যে কাজ করেছেন, তা নিজেই একটি মহাকাব্য।'
প্রান্তিক স্তরে কাজ করা সমাজকর্মী ও সংগঠনগুলিকে স্বীকৃতি দেওয়ার এই উদ্যোগের প্রশংসাও করেন কবি। এ দিন ছ'টি বিভাগে তাম্রলিপ্ত সম্মান দেওয়া হয়। শিক্ষা বিভাগে নিউ আলিপুর কলেজের অধ্যাপক ড. জয়দীপ ষড়ঙ্গী, খেলাধুলোয় এগরার ইউথ বেঙ্গল স্পোর্টস অ্যাকাডেমি, সমাজসেবায় পাঁশকুড়ার শুভেচ্ছা হেলথ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, পরিবেশ বিভাগে হুমগড়ের সাবিত্রী জানা যগ্নিগ্রাহী ও শ্যামলকান্তি যগ্নিগ্রাহী, স্বাস্থ্য-সুস্থতায় কোলাঘাট সংকেত ক্লাব, শিল্প ও সংস্কৃতি বিভাগে তমলুকের দেবব্রত দত্ত ওই সম্মান পান। ফাউন্ডেশনের সম্পাদক শেখ খাইরুল ইসলাম বলেন, 'এই সম্মানের মাধ্যমে পর্দার আড়ালে থাকা নায়কদের কুর্নিশ জানাচ্ছি যাঁরা নীরবে বিকশিত ভারতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।'