এই সময়, শিলিগুড়ি: দাম মাত্র ৪০ টাকা। কাজের ফাঁকে কাউকে না-বলে লুকিয়ে ওই দামের চকোলেট খেয়েছিলেন শিলিগুড়ির এসএফ রোডে থাকা একটি অনলাইন ডেলিভারি সংস্থার এক কর্মী। ওই ঘটনায় শুধু ওই কর্মীর চাকরি যায়নি, ঘটনা গিয়ে পৌঁছেছে পুলিশে কাছে। অভিযুক্তকে চকোলেট 'চুরি' করার ভিডিয়ো দেখিয়ে দশ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে ওই সংস্থার কয়েকজন কর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এমনকী সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে ব্ল্যাকমেল করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ওই যুবকের পরিবার থানায় এ নিয়ে অভিযোগ করলে হইচই শুরু হয়। তার পরেই সংস্থার তরফে ওই কর্মীর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ করা হয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, এসএফ রোডের ওই ডেলিভারি সংস্থার স্টোরে কাজ করেন ২১ বছর বয়সি শিবমন্দিরের এক যুবক। ওই সংস্থায় প্রতি মাসে ৭ তারিখ কর্মীদের বেতন দেওয়া হয়। চলতি মাসের নির্দিষ্ট দিনে কাজের শেষে বেতন নিতে গেলে ওই যুবককে সিসি ক্যামেরা না-থাকা একটি ঘরে আটকে রেখে সংস্থার কয়েকজন কর্তা দশ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ। ওই যুবক এবং তার পরিবার অবশ্য সংস্থার দাবি মতো 'চুরি'র অভিযোগ স্বীকার করেননি। তাঁদের দাবি, কিছু না বুঝেই ওই যুবক চকোলেট খেয়েছে। তবে সেটা কখনও চুরি করে নয়। দু'পক্ষ শিলিগুড়ি থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশের তরফে কোনও মামলা রুজু করা হয়নি। সেই কারণে অভিযুক্ত যুবকের বাবা শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার এবং দার্জিলিং জেলা লেবার কমিশনে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।
যুবকের বাবার বক্তব্য, 'কলেজ পড়ুয়া ছেলে হাতখরচ জোগাড়ের জন্য ওই সংস্থায় কাজ নিয়েছিল। কাজ করার সময়ে ৪০ টাকা দামের একটা চকোলেট কাউকে না-বলে খাওয়ার কথা স্বীকার করেছে ছেলে। কিন্তু চকোলেট খাওয়ার ছবি সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড হওয়ায় সংস্থার দুই-তিন জন আধিকারিক ছেলেকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করেন। ছেলেকে বেশ কয়েক ঘণ্টা একটি ঘরে আটকে রেখে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দাবি করা হয়।' তিনি বলেন, 'ওদের চাপে এবং ভয়ে ছেলে ভুল স্বীকার করে দশ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা স্বীকার করে।'
যদিও পরবর্তীতে থানা-পুলিশ হওয়ায় সেই টাকা আর দিতে হয়নি ওই যুবককে। তবে তাঁকে কাজে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত যুবকের সমর্থনে কথা বলায় আরও দুই কর্মীকে কাজে আসতে নিষেধ করা হয়েছে বলে খবর। টাকা দাবি করার অভিযোগ মানতে নারাজ সংস্থার লিগাল টিমের আধিকারিক অর্ক মজুমদার। তিনি বলেন, 'এই ছেলেটি আগেও একটি সংস্থায় চুরি করে চাকরি হারিয়েছিল। আমাদের এখানেও নিয়মিত চুরি করেছে। প্রমাণ রয়েছে আমাদের কাছে। প্রমাণ হাতে নিয়েই বিষয়টি আমরা পুলিশকে জানিয়েছি। যেহেতু চুরির বিষয়টি ধরা পড়েছে সেই কারণে ওই কর্মীকে আমরা আর কাজে নিতে চাইছি না।'
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিলিগুড়ি আদালতের আইনজীবী মনীষ বারি। তাঁর বক্তব্য, 'আমাদের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রয়েছে। সেখানে ওই যুবকের পরিবার আমাদের শরণাপন্ন হওয়ায় তদন্ত করে বুঝতে পেরেছি, ছেলেটি সামান্য ভুল করেছে। কিন্তু তার থেকেও বেশি অন্যায় করেছেন ওই সংস্থার কয়েকজন কর্মী। ছেলেটিকে আটকে রেখে ব্ল্যাকমেল করা হয়েছে। থানা কেন তদন্ত শুরু করেনি জানি না।' কয়েক বছর আগে বোনের সঙ্গে শপিং মলে গিয়ে সবার চোখ এড়িয়ে চকোলেট খেয়ে নেন ভুটান সীমান্ত লাগোয়া আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁর এক তরুণী। সিসিটিভি ক্যামেরায় ওঠা সেই ছবি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন মল কর্তৃপক্ষ।