• লরি ভর্তি গোরু, খবর পেয়েই হাজির বিজেপির মণ্ডল সভাপতি, এর পরে যা হলো...
    এই সময় | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ফিল্মি কায়দায় গোরু বোঝাই লরি আটকালেন প্রাক্তন সেনাকর্মী তথা কোতুলপুরের বিজেপি মণ্ডল সভাপতি। শুক্রবার রাতের ঘটনা। শুধু গোরু বোঝাই লরিই আটকাননি, পাচারকারীদের দু’জনকে হাতেনাতে ধরেও ফেলেন। এই ঘটনা ঘিরে শুক্রবার রাতে হুলস্থুল কোতুলপুর থানার দেশড়া-কোয়ালপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পুয়োলগেড়ে এলাকায়। দুই অভিযুক্তকে নিয়ে গোরু বোঝাই লরি নিজেই চালিয়ে থানার দিকে রওনা দেন মণ্ডল সভাপতি। যদিও মাঝ রাস্তায় পুলিশ এলে, তাদের হাতে তুলে দেন। পরে আরও চার জনকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে ১২টি গোরু, আটক মোট ৬ জন।

    এ দিন রাতে কোতুলপুর থানার দেশড়া-কোয়ালপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পুয়োলগেড়ে গ্রাম থেকে একটি লরিতে গোরু পাচার হচ্ছে বলে খবর পান বিজেপির মণ্ডল-১ সভাপতি কেশবী নাগা। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগেই গোরু বোঝাই লরিটি দ্রুতগতিতে গ্রামের রাস্তা দিয়ে বেরিয়ে যায় বলে অভিযোগ। এর পরে লোকজন নিয়ে লরির পিছু নেন মণ্ডল সভাপতি। বিকল্প রাস্তা দিয়ে গিয়ে লরির সামনে পৌঁছে যান তাঁরা। অভিযোগ, লরি গতি বাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করলে কেশবী নিজের বাইক নিয়ে লরির সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন। বাধ্য হয়ে জরুরি ব্রেক কষে লরিটি দাঁড় করান চালক।

    লরি থামতেই গাড়ির দিকে ছুটে যান মণ্ডল সভাপতি ও তাঁর সঙ্গীরা। অভিযোগ, তখনই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে লরি থেকে বেশ কয়েকজন নেমে পালিয়ে যায়। তবে দু’জনকে জাপটে ধরে ফেলেন মণ্ডল সভাপতি।

    এর পরে গোরু বোঝাই লরিতে ওই দুই ব্যক্তিকে বসিয়ে নিজেই লরির স্টিয়ারিং হাতে নিয়ে থানার দিকে রওনা দেন কেশবী। যদিও পথে পুলিশের সঙ্গে দেখা হলে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় দুই অভিযুক্ত-সহ লরি ও গোরুগুলিকে। এর পরে আরও চার জনকে আটকান তাঁরা। এখনও পর্যন্ত মোট ৬ জন আটক হয়েছেন এই ঘটনায়।

    আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের দাবি, তিনি কলকাতার বারাসত থেকে কোতুলপুরে গোরু কিনতে এসেছিলেন। গোরু কিনে কলকাতার দিকে যাচ্ছিলেন বলেও জানান। তবে গোরু কেনা বা পরিবহণের ক্ষেত্রে তাঁর কাছে কোনও বৈধ নথি ছিল না বলে খবর। সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা আদৌ গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত কি না এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)