• মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবারে’ অভিযোগ জানাতেই পদক্ষেপ, দমদমের প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান সহ ৩ তৃণমূল নেতা ধৃত
    বর্তমান | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: স্থানীয় বিধায়কের কাছে দমদম পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যানসহ তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ জানিয়ে লাভ হয়নি। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়ে সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ হাজির হয়েছিলেন দমদমের এক প্রোমোটার। শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর সক্রিয়তায় তোলাবাজিসহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন দমদম পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান বরুণ নট্টসহ তিন তৃণমূল নেতা। বৃহস্পতিবার রাতে দমদমের বাড়ি থেকে পুলিশ বরুণ নট্ট, দমদমের যুব তৃণমূল নেতা নয়নাশিস দাস ওরফে জনি ও সুমন্ত ঘোষ ওরফে লাল্টুকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের এদিন বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক আট দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ওই কেসে দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যানসহ মোট ১৭জনের নামে অভিযোগ রয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গোটা রাজ্যেই ধৃত তৃণমূল নেতাদের ‘ডিম থেরাপি’ দিতে দেখা গেলেও এদিন সামান্য কটুকথাও শুনতে হয়নি ধৃত তৃণমূল নেতাদের। কোন রসায়নে এটা সম্ভব হল, তা নিয়ে দমদমজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

    দমদমের বাসিন্দা সুজয় মজুমদার পেশায় প্রোমোটার। ২০২৩-২৪ সালে তিনি পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নবপল্লি এলাকায় একটি পাঁচতলা আবাসন তৈরির কাজ শুরু করেন। অভিযোগ, কাজ শুরু হতেই স্থানীয় কাউন্সিলার পর্ণা দাস ও তাঁর ছেলে তথা যুব তৃণমূল নেতা নয়নাশিস দাস ‘ব্ল্যাকমেইল’ শুরু করেন। তিনি পুরসভার চেয়ারম্যান হরেন্দ্রকুমার সিং ও ভাইস চেয়ারম্যান বরুণ নট্টের কাছে যান। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। উলটে সুজয়বাবুকে বিপুল অঙ্কের তোলা দিতে হয়। অভিযোগে তিনি লিখেছেন, প্রাক্তন চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, কাউন্সিলার ও তাঁর ছেলেসহ সিন্ডিকেটের মাথারা দফায় দফায় ৮০ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। টাকার জন্য এক সময় তাঁর সাইট থেকে বালি, সিমেন্ট ও রড লুট করা হয়। সেই সময় সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ থানায় অভিযোগ করেও লাভ হয়নি।  তিনি এই টাকা অভিযুক্তদের এনইএফটি, ইউপিআই, অনলাইন ব্যাংকিং ও নগদে দিয়েছেন। হোয়াটসঅ্যাপেও টাকা লেনদেনের প্রমাণ রয়েছে। এই কারবারে পুরসভার এক সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারও জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এদিন থানায় এসেছিলেন সুজয়বাবুর স্ত্রী চুমকিদেবী। 

    তিনি বলেন, ‘ওদের অত্যাচারে আমার দেওর স্ট্রোক হয়ে মারা যায়। আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পালাবদলের পর বিধায়কের কাছে কাগজপত্র জমা দিয়ে লাভ হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীকে জানানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ করেছেন।’ এ বিষয়ে স্থানীয় বিধায়ক অরিজিৎ বক্সি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ওঁরা আমার কাছে আসেননি। সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। তোলাবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের সরকার কঠোর। আইনমাফিক পদক্ষেপ হবে।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)