আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের হোটেল ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট অয়ন গুপ্ত এবং মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার টুইঙ্কল দাশকে। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁরা 'হানিট্র্যাপ'-এর শিকার হয়ে এই অপরাধমূলক চক্রান্তে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
ঝাড়খণ্ড পুলিশের দাবি, ধৃত অয়ন গুপ্ত ও টুইঙ্কল দাশ প্রধান অভিযুক্তকে নিহত ব্যবসায়ীর মোবাইল টাওয়ার লোকেশন জানিয়ে সাহায্য করতেন। ঝাড়খণ্ডে ধৃত ছ’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই দুই পুলিশকর্মীর নাম সামনে আসে।
শুক্রবার ব্যাঙ্কশাল আদালত চানডিল থানার ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করায়, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ধৃতদের ঝাড়খণ্ডের আদালতে হাজির করা হবে।
লালবাজার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সার্জেন্ট অয়ন গুপ্ত কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) গৌতম গুপ্তের পুত্র। গৌতম একজন অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল আধিকারিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
অয়নও দীর্ঘ ১২ বছরের কর্মজীবনে চিংড়িঘাটার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত মোড়ে দক্ষতার সাথে ডিউটি সামলেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বে কোনও অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ ছিল না।
তদন্তে জানা গিয়েছে, নিহত ব্যবসায়ী বা মূল অভিযুক্তের সঙ্গে অয়নের সরাসরি কোনও পরিচয় ছিল না। সিভিক ভলেন্টিয়ার টুইঙ্কল দাশের মাধ্যমেই মূল অভিযুক্ত অশোক সিং রাঘবের সঙ্গে অয়নের পরিচয় হয়।
কলকাতায় একটি গাড়ির খোঁজখবর ও অন্যান্য সহযোগিতার অজুহাতে অয়নের ট্রাফিক সংক্রান্ত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়। সহকর্মীদের কাছে অয়ন আগেই জানিয়েছিলেন, সিভিক ভলান্টিয়ারের মারফতেই তাঁর সাহায্য চাওয়া হয়েছিল।
তবে একজন সৎ পুলিশ আধিকারিকের পুত্র হয়ে এবং নিজে কলঙ্কমুক্ত কর্মজীবনের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও, অয়ন কীভাবে এই ফাঁদে পা দিলেন- তা নিয়েই লালবাজারের শীর্ষ মহলে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে।