• ঝাড়খণ্ডে হোটেল ব্যবসায়ী খুনে ‘হানিট্র্যাপ’?
    আজকাল | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের হোটেল ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট অয়ন গুপ্ত এবং সিভিক ভলান্টিয়ার টুইঙ্কল দাস।

    ইতিমধ্যেই, ধৃতদের ঝাড়খণ্ডে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেল ঝাড়খণ্ডের চানডিল থানার পুলিশ। শুক্রবার ব্যাঙ্কশাল আদালত দু’জনের ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করেছে।

    আগামী ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ধৃত দু’জনকে ঝাড়খণ্ডের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, খুনের আগে নিহত ব্যবসায়ীর লোকেশন সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে অভিযুক্তদের সাহায্য করেছিলেন কলকাতার ওই দুই পুলিশকর্মী।

    খুনের ঘটনার সঙ্গে তাঁদের যোগ রয়েছে বলেই দাবি ঝাড়খণ্ড পুলিশের। শুক্রবার আদালতে সরকারি কৌঁসুলিও সেই কথা জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরও পাঁচ জনের হদিশ মিলেছে বিহার থেকে। খুব শীঘ্রই তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা হবে।

    অভিযুক্ত অয়নকে নিয়ে কী দাবি করছে কলকাতা পুলিশ?

    ধৃত অয়ন গুপ্তকে নিয়ে একাধিক তথ্য উঠে এসেছে। অয়ন কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি কমিশনার গৌতম গুপ্তের ছেলে। প্রায় ১২ বছরের কর্মজীবনে দায়িত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন অয়ন।

    তাঁর বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগের রেকর্ড নেই বলে দাবি লালবাজারের। চিংড়িঘাটার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন অয়ন।

    কীভাবে অয়নের সঙ্গে পরিচয় অভিযুক্তদের?

    লালবাজার সূত্রে খবর, ঝাড়খণ্ডের ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত অশোক সিং রাঘবের সঙ্গে অয়নের আগে থেকে কোনও পরিচয় বা যোগাযোগ ছিল না। সিভিক ভলান্টিয়ার টুইঙ্কল দাসের মাধ্যমেই অয়নের সঙ্গে অশোকের পরিচয় হয়।

    টুইঙ্কলের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ ছিল অভিযুক্ত অশোকের। তাদের মধ্যে ফেসবুকে ও হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথন চলত বলে দাবি পুলিশের। ঘটনায় টুইঙ্কলকে হানিট্র্যাপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল কিনা সে বিষয়েও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। 

    ঝাড়খন্ডের হোটেল ব্যবসায়ীকে খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত অশোক সিং কলকাতার বাসিন্দা। তবে ঝাড়খণ্ডে একটি সংবাদপত্র চালাতেন তিনি। এমনকী, ঝাড়খণ্ড অঞ্চলে কোলিয়ারি বেল্টেও তার যোগাযোগ ছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

    পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, টাকার লেনদেনের কারণেই ঘটেছে এই খুনের ঘটনা। জানা গিয়েছে, অশোকের আর্থিক পরিস্থিতি খুব একটা ভাল ছিল না। সুপারি কিলারকে বরাত বাবদ ১৫ লক্ষ টাকাও তিনি দিয়ে উঠতে পারেননি।

    পুলিশের দাবি, কলকাতায় একটি গাড়ির হদিশ এবং কিছু সহযোগিতার প্রয়োজনেই অয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। সেই সূত্রেই অশোকের সঙ্গে অয়নের কথোপকথন হয়। এই যোগাযোগের সূত্র ছিল টুইঙ্কল বলে দাবি কলকাতা পুলিশের।

    ঝাড়খণ্ড পুলিশের অভিযোগ, খুনের আগে নিহত ব্যবসায়ীর গতিবিধি বা টাওয়ার লোকেশন সংক্রান্ত তথ্য পেতে অভিযুক্তদের সহযোগিতা করেছিলেন অয়ন ও টুইঙ্কল।

    অভিযোগ, ট্রাফিক সার্জেন্ট হওয়ার সুবাদে সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছিল অয়ন। ট্রাফিক বিভাগের একাধিক প্রযুক্তিকে কাজে ব্যবহার করে অশোক সিংকে তথ্য দিয়েছিল নিখিলের গতিবিধির। এমনটাই ঝাড়খণ্ড পুলিশের দাবি।
  • Link to this news (আজকাল)