আজকাল ওয়েবডেস্ক: কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠ মন্দির প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন মেলা প্রাঙ্গণে বিপুল জনসমাগমের সুযোগ নিয়ে চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ৬২ জনকে আটক করেছে তারাপীঠ থানার পুলিশ।
ইতিমধ্যেই, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জোর কদমে নামল পুলিশ ও জেলা প্রশাসন। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, উৎসবের কয়েক দিনে দর্শনার্থীদের তরফে শতাধিক চুরির লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জমা পড়েছে।
প্রতি বছরই কৌশিকী অমাবস্যায় তারা মায়ের দর্শনে ও বিশেষ পুজো দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটে। এই বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা যাতে সক্রিয় হতে না পারে, তার জন্য আগে থেকেই কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তুলেছিল বীরভূম জেলা পুলিশ।
প্রশাসন সূত্রে খবর, মেলা ও মন্দির চত্বরের নিরাপত্তার দায়িত্বে মোট প্রায় ৪০০০ পুলিশকর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা হয়েছিল। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধীদের চিহ্নিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়।
গোটা তারাপীঠ জুড়ে বসানো হয় তিনশোরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা। শুধু তাই নয়, এবার বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল ‘ফেস রেকগনিশন’ প্রযুক্তির ওপর। অপরাধীদের পুরনো রেকর্ড এবং গতিবিধির ওপর নজর রাখতে তৈরি করা হয়েছিল বিশেষ কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এত নিরাপত্তার মধ্যেও ভিড়ের সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে পকেটমার, সোনার গয়না এবং মোবাইল ছিনতাইকারীরা। খোয়া গিয়েছে একাধিক পুণ্যার্থীর মানিব্যাগ, সোনার চেন ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
জানা গিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং ছদ্মবেশে ভিড়ের মধ্যে মিশে থেকে একের পর এক অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের স্পেশাল টিম ও গোয়েন্দারা।
আটক হওয়া ৬২ জনের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চোরাই সামগ্রী উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ‘বিপুল জনসমুদ্রের মধ্যেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা অনেকটাই সাহায্য করেছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মন্দির চত্বরে বাড়তি সতর্কতা এখনও বহাল রাখা হয়েছে।’