রেজিনগর উপনির্বাচনে কাফিই কি ‘কাফি’ কংগ্রেসের জন্য?
আজকাল | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: বহুজাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ চাকরি ছেড়ে কংগ্রেসের সর্বক্ষণের কর্মী আবদুল্লাহিল কাফি এবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী। শুক্রবার রাতে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের সঙ্গে রেজিনগর কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে কংগ্রেসের তরফ থেকে। আর প্রত্যাশা মতই রেজিনগর কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী করেছে কাফিকে।
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর আসন থেকে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রতীকে জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। তিনি ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৩৬টি ভোট পেয়েছিলেন। ওই কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী জিল্লু শেখ মাত্র ৪১০১ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে ছিলেন। এবার সেই রেজিনগর কেন্দ্রেই প্রথম হওয়ার জন্য লড়ছেন কাফি। মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের বর্তমান বিরোধী দলনেতা আবদুল্লাহিল কাফি ২০১৮ সাল পর্যন্ত একটি বহুজাতিক সংস্থায় চাকরি করতেন। পরে কংগ্রেস রাজনীতির টানে সবকিছু ছেড়ে দিয়ে অধীর চৌধুরীর হাত ধরেন। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গা-১ ব্লকের অন্তর্গত ভাবতা এলাকায় বুথ সভাপতি থেকে কংগ্রেসের হয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী হওয়ার কৃতিত্ব কাফি দিতে চান প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীকে। বাবা-মায়ের পরিচয় না দেখে বিরোধীদের হাত থেকে রেজিনগর বিধানসভা কংগ্রেসের হয়ে ছিনিয়ে আনার গুরুদায়িত্ব তাঁর কাঁধে দেওয়ার জন্য কংগ্রেসের সর্বভারতীয় নেতৃত্বের প্রতিও কৃতজ্ঞ কাফি।
তিনি বলেন, “রেজিনগর আসন থেকে হুমায়ুন কবীর পদত্যাগ করার পরই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকে আমাকে রেজিনগর আসনে লড়ার জন্য প্রস্তুত হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে আমি দলের বহরমপুর মহকুমা সভাপতির পদেও রয়েছি। রেজিনগর বিধানসভা বহরমপুর মহকুমার অন্তর্গত হওয়ায় ওই কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরেই লড়াই করার জন্য সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিলাম। গতকাল রাতে দল আমার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে।”
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের তাঁর মূল লড়াই বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে হলেও অন্য প্রার্থীরাও ‘কিছুটা’ লড়াইতে রয়েছেন বলে মনে করেন কাফি। তিনি বলেন, “গোটা দেশেই কংগ্রেসের সঙ্গে মূল লড়াই বিজেপির। তাই রেজিনগর উপনির্বাচনেও একই রকম হতে চলেছে। উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে আমি জয়ী হলে রাজ্যে সরকারের কোনও পরিবর্তন হবে না কিন্তু গোটা দেশ এবং রাজ্যে কংগ্রেস এক অন্য উচ্চতায় উঠবে। এই নির্বাচনের ফলাফল রাজ্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে।”
তিনি বলেন, “২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি রাজ্যের মানুষকে প্রচুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তারা বলেছিল সব মহিলাদেরকে অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার দেওয়া হবে, বিদ্যুতের বিল কমানো হবে, গ্যাসের দাম কমবে, বেকাররা চাকরি পাবে। কিন্তু তিন মাসেই রাজ্যের মানুষের বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ হয়েছে। তাই রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে সাধারণ মানুষ নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশের একটি জায়গা পেতে চলেছেন। রেজিনগরের সাধারণ ভোটাররা দু’হাত উজার করে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে আমাকে ভোট দেবেন।”
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থীর শোচনীয় ফলাফল স্বীকার করে নিয়ে কাফি বলেন, “সেই সময় সম্পূর্ণ আলাদা একটি পরিবেশে ভোট হয়েছিল। প্রচুর মানুষের নাম এসআইআর করে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এলাকার মানুষকে বাবরি মসজিদের নামে বিভ্রান্ত করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। তবে মুর্শিদাবাদ জেলার সংখ্যালঘু মানুষ হুমায়ুন কবীরের চালাকি ধরে ফেলেছেন। তিনি বিজেপির কথায় রাজনীতি করছেন। তিনি যে মসজিদ তৈরি করছেন তার কোনও নথিতে বাবরি মসজিদের উল্লেখ নেই। উনি বাবরি মসজিদকে সামনে রেখে টাকা তুলছেন। কিন্তু উনি বিজেপির কথায় চলার কারণে আর্থিক দুর্নীতি হলেও ইডি বা সিবিআই-এর মত তদন্তকারী সংস্থা চোখ বুজে বসে রয়েছে।”
সাম্প্রতিক সময়ে মুর্শিদাবাদ জেলায় যে কোনও বিধানসভা উপনির্বাচনে কংগ্রেসের জয় কাফিকে আরও আশাবাদী করেছে। তিনি বলেন, “সাগরদিঘি বিধানসভা উপনির্বাচনের কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবেই বাইরন বিশ্বাস জিতেছিলেন। ২০১১ সালে রেজিনগর থেকে হুমায়ুন কবীর কংগ্রেসের প্রতীকে জেতার পর তিনি পদত্যাগ করলে ২০১৩ সালের উপনির্বাচনে রেজিনগরে কংগ্রেস প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন। তাই রেজিনগর আসনে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে আমার জয় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।”
তিনি আরও বলেন, “রেজিনগরে দীর্ঘদিন ধরে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন। কিন্তু রেজিনগরে এখনও ভাল কলেজ, হাসপাতাল, স্কুল নেই। রাস্তাঘাটের অবস্থাও ভাল নয়। জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা হিসেবে আমি সভাধিপতির তেল চুরি নিয়ে লড়াই করেছি, বহরমপুরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নার্সিংহোম খোলার জন্য লড়াই করেছি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইতে কখনও সফল হয়েছি কখনও বা ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছি। তবুও লড়াইয়ের ময়দানে ছেড়ে যাইনি।”
কংগ্রেস প্রার্থীর করেন, “রাজ্যে শাসকদলের পক্ষ থেকে ইদের নামাজ, কুরবানি, মসজিদে মাইক খোলার নামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদেরকে সন্ত্রস্ত করার চেষ্টা হয়েছে। তার জবাব দিতে মুখিয়ে আছেন রেজিনগরের ২৮২টি বুথের ভোটাররা।”
কাফি জানান, দলের নির্দেশ পাওয়ার পরই উপনির্বাচনের জন্য তিনি রেজিনগরে প্রস্তুতি এবং প্রচার শুরু করে দিয়েছিলেন। শনিবার বিকেল থেকে রেজিনগর, শক্তিপুর এবং বেলডাঙ্গায় দলের কর্মীদের সঙ্গে তাঁর তিনটি বৈঠক রয়েছে। আজ থেকেই তাঁর সমর্থনে রেজিনগরের বিভিন্ন এলাকায় দেওয়াল লিখন শুরু হয়ে গিয়েছে। কাফি জানান, “আগামী সোমবার বহরমপুরে প্রশাসনিক ভবনে আমি মনোনয়নপত্র জমা দেব। সেই সময় অধীর চৌধুরীও আমার সঙ্গে থাকতে পারেন।”